অক্টোবর ২৩, ২০২৫, ০৮:১১ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের টেস্ট অধিনায়কত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া শূন্যতা পূরণে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সবশেষ শ্রীলঙ্কা সফরে এই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের কোনো টেস্ট ম্যাচ না থাকায় তার উত্তরসূরি কে হবেন, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বোর্ড।
তবে আগামী মাসেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজের আগেই সাদা পোশাকের ক্রিকেটে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নতুন কারো কাঁধে দায়িত্ব তুলে দিতে চায় বিসিবি। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্ভাব্য অধিনায়কদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
বুধবার বিসিবি সভাপতি সাংবাদিকদের জানান, টেস্ট ক্রিকেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফরম্যাটের অধিনায়ক নির্বাচনের ক্ষেত্রে বোর্ড একটি সুনির্দিষ্ট নীতি অনুসরণ করবে। তিনি বলেন, “টেস্ট ক্রিকেটের অধিনায়কত্বটা আমরা যেটা পলিসি নিয়েছি সেটা হচ্ছে আমরা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলব।” এই আলোচনা প্রক্রিয়ায় কারা যুক্ত থাকবেন, সে বিষয়েও ধারণা দেন তিনি।
বুলবুল বলেন, “বোর্ডের পক্ষ থেকে ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ কথা বলবে, জাতীয় দলের নির্বাচকরা কথা বলবেন, এবং কোচিং স্টাফের শীর্ষস্থানীয় যারা আছেন, তারাও আলোচনায় থাকবেন।” অর্থাৎ, এটি একক কোনো সিদ্ধান্ত হবে না, বরং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সম্মিলিত আলোচনার মাধ্যমেই নতুন অধিনায়ক নির্বাচন করা হবে।বিসিবি সভাপতি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আলোচনা করে শুধু উপযুক্ত মনে হলেই হবে না, “যে ক্যাপ্টেন হবে তাকে এগ্রি করতে হবে।” অর্থাৎ, যাকে অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচন করা হবে, তার অবশ্যই এই গুরুদায়িত্ব নিতে পূর্ণ সম্মতি থাকতে হবে।
কারণ টেস্ট অধিনায়কত্ব কেবল মাঠের খেলা পরিচালনা নয়, এর সঙ্গে দলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা এবং চাপের মধ্যে থেকে দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার মতো বিষয়গুলোও জড়িত। তাই প্রার্থীর সদিচ্ছা এবং মানসিক প্রস্তুতি এক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি। সব পক্ষের আলোচনা এবং প্রার্থীর সম্মতির পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান বুলবুল। তিনি বলেন, “এবং তারপর সবাই মিলে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
বিসিবি সভাপতি নির্দিষ্ট করে না বললেও জানান যে, তারা সম্ভাব্য তিন থেকে চারজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এই আলোচনা করবেন। কাদের সঙ্গে কথা বলা হবে তা নির্ভর করবে সেই সম্ভাব্য অধিনায়কদের ইচ্ছার ওপর এবং তাদের যোগ্যতা একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড বা ‘বেঞ্চমার্ক’ পূরণ করছে কিনা, তার ওপর। বুলবুল বলেন, “আমরা তিন-চারজন নিয়ে কথা বলব। নির্ভর করবে প্রবাবল ক্যাপ্টেনের ইচ্ছা এবং তার যে ক্যালিবার আছে একটা বেঞ্চমার্ক যদি মিট করে, আমরা খুব তাড়াতাড়ি জানিয়ে দেব।” তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বোর্ড কেবল অভিজ্ঞতাই নয়, বরং নেতৃত্ব দেওয়ার সহজাত ক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদে দলকে যোগ্যতা আছে এমন কাউকেই খুঁজছে।
এদিকে, টেস্ট অধিনায়কত্ব নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বিসিবি সভাপতি ওয়ানডে দলের বর্তমান অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজকে নিয়েও কথা বলেন। মিরাজের নেতৃত্বগুণের প্রশংসা করে বুলবুল বলেন, “একেবারে নতুন অধিনায়ক। আমরা সবাই জানি মিরাজ ক্যাপ্টেন ম্যাটেরিয়াল।” তবে তিনি একই সঙ্গে মিরাজকে আরও সময় দেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “ওকে একটু সময় দিতে হবে এবং খেলায় তো জয় পরাজয় থাকবেই।
এটাও ঠিক যে একটা ক্যাপ্টেনের ম্যাচিউরিটি দেখা যায়, বোঝা যায়। তার মধ্যে সেই সম্ভাবনা আছে।” বিসিবি সভাপতির এই মন্তব্য প্রমাণ করে, বোর্ড তরুণ নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখছে এবং তাদের পরিপক্ক হয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও সমর্থন দিতে প্রস্তুত।নাজমুল হোসেন শান্তর পদত্যাগের পর টেস্ট দলের হাল কে ধরবেন, তা নিয়ে ক্রিকেট পাড়ায় নানা গুঞ্জন চলছে। সাকিব আল হাসান অতীতে এই দায়িত্ব পালন করলেও তার ফিটনেস এবং দীর্ঘমেয়াদে টেস্ট খেলার আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। লিটন দাসও সহ-অধিনায়ক হিসেবে কাজ করেছেন, তিনিও আলোচনায় থাকতে পারেন। আবার মিরাজ ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিলেও তাকে টেস্টেও বিবেচনা করা হবে কিনা, সেটাও দেখার বিষয়।
তবে বিসিবি সভাপতি যেহেতু আলোচনার মাধ্যমে এবং প্রার্থীর সম্মতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন, তাই আয়ারল্যান্ড সিরিজের আগে টাইগারদের নতুন টেস্ট কান্ডারি কে হচ্ছেন, তা জানতে আরও কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতেই হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন