রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পেদ্রির ইনজুরি: বার্সেলোনায় জরুরি অবস্থা, তোলপাড় ন্যু কাম্পে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ০২:৫৯ পিএম

পেদ্রির ইনজুরি: বার্সেলোনায় জরুরি অবস্থা, তোলপাড় ন্যু কাম্পে

বার্সেলোনার ভেতরে এখন যেন এক জরুরি অবস্থা চলছে। ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সূত্রের ভাষায়, পরিস্থিতি ‘ডেফকন–১’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ক্লাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার পেদ্রি। দলের সবচেয়ে সৃজনশীল এই তরুণ তারকা আবারও গুরুতর ইনজুরিতে পড়েছেন। এবার চোট এতটাই মারাত্মক যে তাকে অন্তত দেড় মাস মাঠের বাইরে থাকতে হবে। কিন্তু এই ইনজুরি শুধু একজন ফুটবলারের ছিটকে পড়ার দুঃখ নয়, এটি আক্ষরিক অর্থেই পুরো ক্লাবকে কাঁপিয়ে দিয়েছে।

গত এক দশকে বার্সেলোনা বহুবার ইনজুরি সংকটের মধ্য দিয়ে গেলেও পেদ্রির বারবার এভাবে ভেঙে পড়া নতুন এক ভূমিকম্পের সঞ্চার করেছে ন্যু কাম্পে। ক্লাবের ভেতরে এখন চলছে দায়–দায়িত্বের চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কোথায় ভুল হচ্ছে? কেন প্রতিবারই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রতিভা ঝলমলে হওয়া সত্ত্বেও শরীর ভেঙে যাচ্ছে মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে?

এই সংকটের ফলে বিশেষ করে শারীরিক প্রস্তুতির দুই মুখ্য ব্যক্তি এখন ঝড়ের কেন্দ্রে। তারা হলেন ফিজিক্যাল কন্ডিশনিং প্রধান জুলিও তুস এবং ফিজিওথেরাপি প্রধান রাউল মার্তিনেজ। এই দুজনেই বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছিলেন কোচ হান্সি ফ্লিকের স্টাফ হিসেবে। তাদের নিয়োগের সময় ক্লাবের প্রত্যাশা ছিল বিপুল। কথা ছিল, তারা খেলোয়াড়দের ফিটনেসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবেন এবং ক্লাবের ইনজুরির হার কমপক্ষে অর্ধেকে নামিয়ে আনবেন।

হান্সি ফ্লিকের অধীনে প্রথম মৌসুমে বার্সেলোনাকে মাঠে বেশ প্রাণবন্ত, শক্তিশালী এবং দৌড়ঝাঁপে ভরপুর মনে হয়েছিল। এতে কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও মূল লক্ষ্য পূরণ হয়নি। ইনজুরি কমেনি, বরং উল্টো চিত্র দেখা গেছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত মৌসুমে বার্সেলোনা লা লিগায় সর্বোচ্চ ইনজুরির তালিকায় ছিল। যেখানে বার্সার খেলোয়াড়দের মোট ইনজুরির সংখ্যা ছিল ২০টি, সেখানে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদের ইনজুরির সংখ্যা ছিল ১৮টি। পেদ্রির এই নতুন চোট সেই ব্যর্থতাকেই যেন আবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।