মে ২৫, ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
বরফে আচ্ছাদিত অ্যান্টার্কটিকা পৃথিবীর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। শীতলতম, শুষ্কতম এবং অত্যন্ত দুর্গম এই মহাদেশটিকে হোয়াইট কন্টিনেন্ট বা সাদা মহাদেশ বলা হয়। এখানে কোনো মানুষের বসতি নেই, কেবল সিল, পেঙ্গুইন আর তিমির রাজত্ব।এটি এক বিশাল রহস্য।
অ্যান্টার্কটিকার ভাসমান আইসবার্গগুলো যেন প্রকৃতির নিজ হাতে তৈরি একেকটি শিল্পকর্ম। এখানে বিজ্ঞানীদের গবেষণার জন্য অস্থায়ী বসতি থাকলেও সাধারণ মানুষের স্থায়ী বসবাসের কোনো সুযোগ নেই। তবুও অভিযাত্রীদের কাছে এটি স্বপ্নের এক গন্তব্য।
স্বপ্ন পূরণের এই যাত্রা শুরু হয় আর্জেন্টিনার উসুয়া বন্দর থেকে।বিগল চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে প্রবেশ করার পর ফকল্যান্ড এবং সাউথ জর্জিয়া দ্বীপপুঞ্জ হয়ে অ্যান্টার্কটিকায় পৌঁছাতে হয়। উত্তাল আটলান্টিকের ভয়াবহ রূপ সামলে ২০ দিনের এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া মোটেও সহজ ছিল না। প্রতিটি মুহূর্ত ছিল রোমাঞ্চকর এবং স্মৃতিতে গেঁথে রাখার মতো।
সাউথ জর্জিয়া দ্বীপটি অন্যরকম।সেখানেই কিং পেঙ্গুইনের সবচেয়ে বড় কলোনিগুলো দেখা যায়। প্রকৃতির এই দৃশ্য সচক্ষে দেখার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি।
স্বপ্নটা ছিল দীর্ঘ দিনের।হন্ডিয়াস জাহাজে চড়ে অ্যান্টার্কটিকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ছিল এক মাহেন্দ্রক্ষণ। উসুয়া শহরের নৌবন্দরে যাবতীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট পরীক্ষার মাধ্যমে বোর্ডিং সম্পন্ন হয়। জাহাজের হোটেল ম্যানেজার থেকে শুরু করে অভিযাত্রী দলের সদস্যরা অত্যন্ত আন্তরিক।
জাহাজের ভেতরের জীবন বেশ সাজানো।প্রতিটি কেবিনে চারজন যাত্রীর জন্য থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। ইন্টারনেট ভাউচার, লাইফ জ্যাকেট এবং প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা সেখানে পাওয়া যায়। জাহাজের বিশাল লাউঞ্জে নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ের সময় লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারের নিয়মকানুন শিখিয়ে দেওয়া হয়।
বিগল চ্যানেলের সৌন্দর্য অতুলনীয়।জাহাজ যখন বিগল চ্যানেল পেরিয়ে আটলান্টিকে প্রবেশ করে, তখন প্রকৃতির রূপ বদলে যায়। ডলফিনের লাফালাফি আর অ্যালবার্ট্রস পাখির ওড়াউড়ি অভিযাত্রীদের মুগ্ধ করে। সূর্য অস্ত যাওয়ার পর আকাশ ও সমুদ্রের যে অপার্থিব রং ফুটে ওঠে, তা কোনো ভ্রমণপিপাসুর চোখ এড়ানোর মতো নয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন