শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬,

দেশের দুই বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৩, ২০২৫, ১১:১০ পিএম

দেশের দুই বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

ছবি - সংগৃহীত

দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে পড়লেও এর পরোক্ষ প্রভাবে বাংলাদেশের দুটি বিভাগে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

দেশের অন্যান্য অঞ্চলে অবশ্য আবহাওয়া প্রধানত শুষ্কই থাকবে, তবে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। একই সঙ্গে, আবহাওয়া বিভাগ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরও একটি নতুন লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে, যা পরবর্তী দিনগুলোতে দেশের আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির স্বাক্ষরিত ওই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন তামিলনাড়ু উপকূলে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এটি বর্তমানে ভারতের তামিলনাড়ু ও এর আশপাশের এলাকায় লঘুচাপ আকারে অবস্থান করছে এবং আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, এটি ধীরে ধীরে আরও গুরুত্বহীন হয়ে যেতে পারে।

অর্থাৎ, এই সিস্টেমটির সরাসরি বড় ধরনের প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে এর রেখে যাওয়া জলীয় বাষ্প এবং বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরের অস্থিরতার কারণে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগগুলোতে কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত দেওয়া সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

এই সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে, যা হেমন্তের আগমনী বার্তাকে আরও স্পষ্ট করবে। তবে এই বৃষ্টিপাত দীর্ঘস্থায়ী বা ভারী হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।শনিবার (২৫ অক্টোবর) পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়ার সামান্য উন্নতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ বলছে, শনিবার নাগাদ সারাদেশে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। অর্থাৎ, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বৃষ্টিপাতের প্রবণতাও কমে আসতে পারে। এই সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে আবহাওয়ার এই আপাত শান্ত অবস্থা হয়তো দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আরও একটি নতুন লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এই নতুন সিস্টেমটি যদি শক্তি সঞ্চয় করে আরও ঘনীভূত হয়, তবে তা আগামী সপ্তাহের শুরুতে দেশের আবহাওয়ায় আবারও পরিবর্তন আনতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর এই সম্ভাব্য নতুন লঘুচাপটির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

এরই প্রতিফলন দেখা গেছে সপ্তাহের শুরুর পূর্বাভাসে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় পুনরায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এই সময়ে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে, যা মূলত মেঘলা আকাশ এবং সম্ভাব্য বৃষ্টিপাতের পূর্বলক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে দেশে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এই পূর্বাভাস মূলত দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টব্য নতুন লঘুচাপটির সম্ভাব্য প্রভাবকেই নির্দেশ করছে। যদিও সিস্টেমটি এখনো তৈরিই হয়নি এবং এর শক্তি বা গতিপথ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়, তবে অক্টোবরের শেষ দিকে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

তাই আবহাওয়া পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। জনসাধারণকে আবহাওয়া সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যের জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আপাতত, শুক্রবার চট্টগ্রাম ও সিলেটে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও শনিবার থেকে আবহাওয়া কিছুটা শুষ্ক হতে পারে, তবে নতুন লঘুচাপের প্রভাবে আগামী সপ্তাহে আবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।