শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

রাজশাহীতে ৫.৪০ লাখ টনেরও বেশি গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৫:২৫ পিএম

রাজশাহীতে ৫.৪০ লাখ টনেরও বেশি গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

চলতি মৌসুমে রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলায় প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার হেক্টর জমি থেকে ৫ লাখ ৪০ হাজার টনেরও বেশি গম উৎপাদনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী ও গবেষকরা প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ায় গম চাষে এবার বড় ধরনের সাফল্য অর্জনের বিষয়ে আশাবাদী।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) রাজশাহীর কৃষি অঞ্চলের চার জেলায় ৯৭ হাজার ৫৭৬ হেক্টর জমি থেকে ৪ লাখ ২০ হাজার টন গম এবং বগুড়া কৃষি অঞ্চলের চার জেলায় ৩১ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমি থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টন গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

ডিএই-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করছেন।

 তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছর ধরেই কৃষকরা ডিএই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে গম চাষ করে আসছেন।চলতি মৌসুমে বিশেষ করে বিস্তীর্ণ বরেন্দ্র এলাকার কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা ব্যাপক গম উৎপাদন নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। কারণ, গম হলো পানি সাশ্রয়ী ও খরা সহনশীল বৈশিষ্ট্যের একটি উপযোগী ফসল। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) পানি-সাশ্রয়ী ফসল হিসেবে এ অঞ্চলে গম চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে, যা ভবিষ্যতের পানির সংকট পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে। তানোর উপজেলার পাঁচন্দর গ্রামের কৃষক আবু বকর মোল্লা মনে করেন, সময় মতো বীজ বপন এবং বর্তমানে বিরাজমান শীতল আবহাওয়া বাম্পার ফলনের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আঞ্চলিক গম ও ভুট্টা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জহিরুল ইসলাম বলেছেন, গম কম সেচ নির্ভর ফসল হওয়ায় বরেন্দ্র এলাকার কৃষকরা নতুন জমিতে গম চাষে আরো আত্মবিশ্বাসী হয়েছেন। গম গবেষণা কেন্দ্র এখন পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের জন্য ২৪টি গমের জাত এবং সময়োপযোগী কিছু প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। তিনি জানান, সম্প্রতি উদ্ভাবিত প্রদীপ, বিজয়, শতাব্দী এবং বারিগম-২৬ সহ ছয়টি নতুন জাত পাতার ব্লাইট ও পাতার মরিচা রোগের প্রতি অধিক সহনশীল এবং বেশি ফলনের সুবিধা রয়েছে। ড. জহিরুল ইসলাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বারিগম-৩৩ সর্বশেষ উদ্ভাবিত জাত, যা ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী, জিংকসমৃদ্ধ, বড় দানার এবং উচ্চ ফলনশীল।

ডিএই-এর সাবেক পরিচালক সিরাজুল ইসলাম মনে করেন, নতুন উদ্ভাবিত জাতের ব্যাপক প্রচার গমের ফলন বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তিনি বলেন, গম খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৪ মিলিয়ন টনের চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১ মিলিয়ন মেট্রিক টন গম উৎপাদন করে।

কৃষিবিদ সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, রাজশাহী বিভাগ গম চাষে মোট জমির ৩৫ শতাংশ এবং মোট উৎপাদনের ৪৪ শতাংশ অবদান রাখে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কৃষি ব্যবস্থাপক এটিএম রফিকুল ইসলাম মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন শুকনো এলাকায় শুধু ইরি-বোরো ধানের ওপর নির্ভর না করে গম চাষের পরিমাণ বাড়ানোর সময় এসেছে।