রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে নড়াইলে আমন ধানের বাম্পার ফলন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৫:০২ পিএম

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে নড়াইলে আমন ধানের বাম্পার ফলন

চলতি খরিপ-২ মৌসুমে নড়াইল জেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। রোপা আমন ধানের ফলন ভালো হওয়ায় এবার জেলার কৃষকদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটেছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ জমির পাকা আমন ধান কাটা সম্পন্ন হয়ে গেছে।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হওয়া এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এই ভালো ফলন সম্ভব হয়েছে।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার তিনটি উপজেলায় ৪৩ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

কিন্তু সরকারি প্রণোদনা ও কৃষকদের উচ্চফলনশীল জাতের বীজ দেওয়ায় আবাদ হয়েছে ৪৩ হাজার ৪৫৫ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।

আবাদকৃত রোপা আমনের মধ্যে সদর উপজেলায় ২০,১৪০ হেক্টর, লোহাগড়া উপজেলায় ১১ হাজার ২৬০ হেক্টর এবং কালিয়া উপজেলায় ১২ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিপু মজুমদার জানান, চলতি মৌসুমে উফশী বারি ধান-৭৫, ৮৭, বিনা ধান-৭, ১৭ সহ বিভিন্ন জাতের, হাইব্রিড জাতের ধান গোল্ড, এ টু জেড-৭০০৬ জাত এবং স্থানীয় জাবড়া, কালোজিরা, চিনিগুড়া, দিঘা ও ক্ষীরকনসহ বিভিন্ন জাতের আমন ধানের আবাদ হয়েছিল। সব জাতেরই ফলন এবার আশানুরূপ হয়েছে।

লোহাগড়া উপজেলার আমাদা গ্রামের কৃষক আজমল হোসেন জানান, তিনি চলতি মৌসুমে প্রায় ২ একর জমিতে রোপা আমন ধান আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে নতুন ধান এখন ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এই ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, সরকার থেকে কৃষকদের মধ্যে প্রণোদনার উচ্চফলনশীল জাতের বীজ সরবরাহ করা, মাঠে নিয়মিত পরামর্শ,

আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ এবং বীজ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ফলেই এবার বাম্পার ফলন সম্ভব হয়েছে। ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই জেলার সম্পূর্ণ ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে বলে তিনি জানান। সামগ্রিকভাবে, জেলায় আমন ধানের ভালো ফলন কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে, অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য এনেছে এবং কৃষকের মুখে সন্তুষ্টির হাসি ফিরিয়েছে।