অক্টোবর ২, ২০২৫, ১২:২১ এএম
দিনাজপুর, ০২ অক্টোবর, ২০২৫—গত কয়েক বছর ধরে বাজারে পাটের দাম কম থাকায় দিনাজপুরের চাষিরা হতাশ ছিলেন, অনেকেই চাষ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। এই বছর পাটের ভালো দাম পাওয়ায় চাষিদের মধ্যে পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে, যা জেলার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামীতে পাটের বাজার দর ভালো থাকলে, উৎপাদন আরও অনেক বেড়ে যাবে।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, চলতি বছর জেলায় ৭৬০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রতি হেক্টর জমিতে ১১ দশমিক ৯৩ বেল হিসাবে মোট ৯ হাজার ৬৬ দশমিক ৮ বেল।
তিনি বলেন, একসময় 'সোনালী আঁশ' নামে পরিচিত পাট একটি উন্নয়নশীল ফসল হিসেবে কৃষকরা চাষ করতেন, কিন্তু পরে পাটজাত পণ্যের চাহিদা কমায় কৃষকের আগ্রহ কমে যায়। তবে এখন পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের কদর বেড়েছে। ফলে পাটের পর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় এবার কৃষকরা ভালো মূল্য পেয়েছেন।
চিরিরবন্দর উপজেলার কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, গত কয়েক বছর প্রতি মণ পাটের দাম ছিল এক হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু এ বছর পাটের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম অনেক ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এখন পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা মণ দরে। ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা খুবই খুশি।
ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষক ধীরেন্দ্র দেবনাথ জানান, পাটের ভালো দামের পাশাপাশি জ্বালানি হিসেবে পাটখড়ির দামও আশানুরূপ পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতি মণ পাটখড়ি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে পাটখড়ি বিক্রি করে কৃষকেরা বাড়তি আয় করতে পারছেন, যা তাদের পাট চাষে আরও আগ্রহী করে তুলছে। কৃষকরা মনে করছেন, পাট চাষে আবার সুদিন ফিরবে।
কৃষি বিভাগ এই আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিতে কাজ করছে। চলতি বছর মৌসুমের শুরুতে মে মাসে জেলার ১৩ উপজেলাতে ৫৭২ জন চাষিকে আধুনিক পাট চাষের পদ্ধতির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাট চাষে আগ্রহ সৃষ্টি করতে ১৩ উপজেলায় ৩ হাজার ৮৫০ জন কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে উন্নত জাতের পাটের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা আফজাল হোসেন মনে করেন, এই সহযোগিতা ও পরামর্শের কারণেই এবার চাষিরা সফল হয়েছেন।জেলা পাট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সোলাইমান আলী বলেন, পাট খুবই সম্ভাবনাময় ফসল। এ বছর পাটের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন এবং সরকারিভাবে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করায় চাষে আগ্রহ বাড়ছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন