নভেম্বর ৬, ২০২৫, ১০:৫১ পিএম
বগুড়া সদর উপজেলার খামারকান্দি এলাকার কৃষি উদ্যোক্তা কামাল হোসেন পেঁপে চাষ করে বর্তমানে যথেষ্ট সুখী জীবনযাপন করছেন এবং এই চাষের সফলতা দিয়েই তিনি বাড়িঘর তৈরি করেছেন এবং তার তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে দুইজনের বিয়েও দিয়েছেন।
প্রায় দশ বছর আগে তিনি কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে পেঁপে চাষ শুরু করেন, কারণ এর আগে তিনি ফুলকপি ও বেগুনসহ অন্যান্য সবজি চাষ করতেন। সরকারি একজন কৃষি কর্মকর্তা তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে পেঁপে চাষ অন্যান্য ফসলের তুলনায় অনেক বেশি লাভজনক হবে।
কামাল হোসেন তার সাড়ে তিন বিঘা জমিতে পেঁপে চাষে মোট সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করেছেন এবং ইতোমধ্যে তিনি প্রায় দুই লাখ টাকা বিক্রিও করেছেন, পাশাপাশি তার আশা রয়েছে যে এই বাগান থেকে তিনি মোট নয় থেকে দশ লাখ টাকা আয় করবেন। তার বাগানের চার থেকে আট ফুট উচ্চতার প্রতিটি গাছেই সাত কেজি পর্যন্ত ওজনের পেঁপে ধরে আছে এবং কমপক্ষে পাঁচ থেকে সাড়ে ছয় কেজি ওজনের পেঁপে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে।
পেঁপে চাষে ঝুঁকি বলতে শুধু ঝড়ো বাতাসকেই বোঝানো হয়, কারণ বাতাসের কারণে পেঁপের ভারে গাছ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়; এজন্য তিনি অধিকাংশ গাছেই বাঁশের খুটি ব্যবহার করেছেন এবং এই গাছগুলোকে রক্ষা করার জন্য মোটা খুঁটি দিতে হয়। পেঁপে চাষে খরচ তুলনামূলকভাবে কম, কারণ জমি প্রস্তুত করে চারা রোপণের পর জৈব সার ছাড়া অন্য কোনো খরচ নেই বললেই চলে, তবে প্রতি মাসে একবার সার দিতে হয়। তার নতুন ও পুরাতন গাছ মিলিয়ে বর্তমানে বাগানে এক হাজারেরও বেশি গাছ রয়েছে এবং প্রথম তিন মাস ধরে গড়ে প্রতিদিন দশ মণ করে কাঁচা ও পাকা পেঁপে বিক্রি হয়ে থাকে। কামাল হোসেন জানান, কাঁচা পেঁপের চেয়ে পাকা পেঁপের দাম বেশি পাওয়া যায়; বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা পেঁপে দশ থেকে বাইশ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়, আর পাকা পেঁপে বিক্রি হয় ত্রিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ টাকা কেজি দরে এবং তার দৈনিক প্রায় দশ থেকে বারো মণ পাকা পেঁপে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। মাত্র দশ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলক চাষে সফলতা পাওয়ার পর তিনি এখন মোট পাঁচ বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করেছেন। জেলার কৃষি বিভাগ আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের পরামর্শ দিচ্ছে এবং আশা প্রকাশ করছে যে, পেঁপের বাজার সারা বছরই ভালো থাকে বিধায় এই অঞ্চলের কৃষকরা কাঁচা ও পাকা উভয় পেঁপেই ভালোভাবে বিক্রি করতে পারবে এবং লাভবান হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন