অক্টোবর ১৮, ২০২৫, ০১:৪৯ পিএম
আশ্বিনের সাদা মেঘের ভেলা আর কাশফুলের শুভ্রতা বিদায় নিচ্ছে, প্রকৃতি এখন নীরবে বরণ করছে ঋতুকন্যা হেমন্তকে। আজ পহেলা কার্তিক, বাংলা পঞ্জিকা মতে হেমন্ত ঋতুর প্রথম দিন। ভোরবেলার হালকা কুয়াশা, ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু আর রোদের কোমল পরশ—সবকিছু মিলিয়ে প্রকৃতিতে এখন এক মনোমুগ্ধকর পরিবর্তনের ছোঁয়া।
শরতের মতো জাঁকজমক বা উচ্ছ্বাস নয়, হেমন্ত আসে এক শান্ত, সংযত ও নরম আবেশে। এই ঋতুর সৌন্দর্যকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দেখেছিলেন ‘ভূষণবিহীন’ এক রূপে। তিনি লিখেছিলেন, “আজি এল হেমন্তের দিন, কুহেলিবিলীন, ভূষণবিহীন।”তবে হেমন্তের এই শান্ত, নীরব রূপকেই সবচেয়ে নিবিড়ভাবে ধারণ করেছেন বাংলা সাহিত্যের ধূসর পাণ্ডুলিপির কবি জীবনানন্দ দাশ।
তার কাছে হেমন্ত এক বিষণ্ণ সুন্দর মায়াময় ঋতু। তিনি লিখেছেন, “শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে,/ অলস গেঁয়োর মতো এইখানে কার্তিকের ক্ষেতে।” এই ঋতুর কুয়াশায় আচ্ছন্ন সৌন্দর্য আর শিশির ঝরার শব্দেই তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন প্রকৃতির গভীরতম অনুভূতি।প্রকৃতিতে হেমন্তের আগমন মানেই মাঠজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ।
একসময় এই কার্তিক মাস কৃষকের জন্য ‘মরা কার্তিক’ বা অভাবের মাস হিসেবে পরিচিত থাকলেও, এখন এই সময়েই আমন ধানের শীষ পুষ্ট হয়। হেমন্তের শেষভাগেই শুরু হয় ধান কাটার মহোৎসব ‘নবান্ন’। কৃষকের ঘরে নতুন ধানের গন্ধে বাতাস ভরে ওঠে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই সময়ের চিত্র এঁকেছেন এভাবে: “উত্তরীয় লুটায় আমার ধানের খেতে হিমেল হাওয়ায়,/ আমার চাওয়া জড়িয়ে আছে নীল আকাশের সুনীল চাওয়ায়।”
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতুচক্র এখন অনেকটাই এলোমেলো, তবু হেমন্তের এই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য—শিশিরভেজা সকাল, সোনালি রোদ আর কুয়াশায় মোড়া গোধূলি—এখনও অমলিন। জীবনানন্দ দাশের ভাষায়, “নিমের শাখার থেকে একাকী পাখি নামি, উড়ে গেল কুয়াশায়- কুয়াশার থেকে দূর কুয়াশায় আরও।” এই একাকী পাখিই যেন হেমন্তের প্রতীক—নীরব, শান্ত, অথচ গভীরভাবে সুন্দর।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন