নভেম্বর ১৪, ২০২৫, ১০:২৫ পিএম
দীর্ঘ সতেরো বছর কারাভোগের পর নিজ নির্বাচনী এলাকায় ফিরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগের কথা স্মরণ করে আবেগঘন মন্তব্য করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। তিনি বলেছেন অনেকেই মনে করেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি।
এবং জেল খেটেছি। কিন্তু তাদের আমি বিনয়ের সাথে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে আমার চেয়েও অনেক বেশি নির্যাতিত হয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবার।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নেত্রকোনার মদন উপজেলার পাবলিক হল মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তৃতার এক পর্যায়ে বাবর বিগত সরকারের সময় জিয়া পরিবারের ওপর বয়ে যাওয়া ঝড়ের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন বেগম খালেদা জিয়া তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে হারিয়েছেন এবং বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মৃত্যুর দুয়ার থেকে কোনোমতে ফিরে এসেছেন। একটি রাজনৈতিক পরিবারের ওপর এর চেয়ে বড় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন আর হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। নিজের কারাবাসের কষ্টের চেয়ে দলীয় প্রধানের এই ত্যাগকে তিনি বড় করে দেখেন বলে নেতাকর্মীদের জানান।
দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে মদন পাবলিক হল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় এবং স্লোগানে স্লোগানে এলাকা মুখরিত করে তোলেন নেতাকর্মীরা।আগামী দিনের রাজনীতি ও দলের করণীয় সম্পর্কে নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিতে গিয়ে লুৎফুজ্জামান বাবর দলের মধ্যে ইস্পাতকঠিন শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ভাষায় বলেন আমরা যদি তারেক রহমানকে আগামীর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই তবে আমাদের অবশ্যই উন্নয়নের রাজনীতি করতে হবে এবং দলের মধ্যে শৃঙ্খলা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে হবে।
বিশৃঙ্খলা করে বা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে হৃদয়ে লালন করে রাজনীতি করার পরামর্শ দেন কারণ তার মতে কেবল তখনি দেশ ও জাতি প্রকৃত সুফল পাবে। উল্লেখ্য লুৎফুজ্জামান বাবর ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে চারদলীয় জোট সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন