শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬,

গণভোট ও নির্বাচন একসঙ্গে হলে জনগণ বিপাকে পড়বে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৪, ২০২৫, ১০:৩০ পিএম

গণভোট ও নির্বাচন একসঙ্গে হলে জনগণ বিপাকে পড়বে

একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে দেশের জনগণকে নতুন করে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক ও আইনি সংকটে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সুনির্দিষ্ট মতামত সংগ্রহ করা অপরিহার্য কারণ জনগণের ম্যান্ডেটই হবে পরবর্তী সরকারের মূল ভিত্তি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় খুলনা-৩ আসনের দৌলতপুর থানাধীন শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

দৌলতপুর থানা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।সংবিধান ও নির্বাচনের আইনি ভিত্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন যে গণভোট ছাড়া আগামী ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের কোনো শক্ত আইনি ভিত্তি বা বৈধতা থাকবে না। সংবিধান অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সর্বশেষ নির্বাচন ২০২৪ সালে হওয়ার পর ২০২৬ সালে নির্বাচনের ঘোষণা সংবিধানের ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে যদি না জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়।

তিনি প্রশ্ন তোলেন যে বর্তমান সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার পদায়নের কোনো বিধান নেই তাই জুলাই সনদকে একমাত্র সংবিধানের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেই বর্তমান পরিস্থিতির আইনি সুরাহা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন যে একটি অদৃশ্য শক্তির ইশারায় একটি বড় রাজনৈতিক দল সরকারের দু-তিনজন উপদেষ্টাকে প্রভাবিত করে পুনরায় ফ্যাসিবাদ কায়েম করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যারা জুলাই বিপ্লবের সনদ মানতে চায় না তাদের জন্য ২০২৬ সালের নির্বাচন প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয় এবং তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। দৌলতপুর থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির মু. মুশাররফ আনসারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান।

সমাবেশে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এবং জনগণের ভালোবাসা ও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে তারা সন্ত্রাস চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়বেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে আগামীর বাংলাদেশে ঘুষ ও দুর্নীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং নির্বাচিত হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে কাজ করবেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা মহানগরী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, মহানগরী নায়েবে আমির অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।