সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

৪২ ফুট গভীরেও সাজিদের সন্ধান মেলেনি, নতুন সিদ্ধান্ত ফায়ার সার্ভিসের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ১১, ২০২৫, ০৩:০৯ পিএম

৪২ ফুট গভীরেও সাজিদের সন্ধান মেলেনি, নতুন সিদ্ধান্ত ফায়ার সার্ভিসের

রাজশাহীর তানোরের কয়েলের হাট মধ্যপাড়া এলাকায় গভীর নলকূপে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে গত ২৪ ঘণ্টা পার হলেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে গর্তের ৪২ ফুট গভীর পর্যন্ত পৌঁছেও শিশুটিকে খুঁজে পাননি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

তাই নতুন করে আরও ১০ ফুট গর্ত খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উদ্ধারকারী দল। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গর্তটি ১৫০ থেকে ২০০ ফুট গভীর। এর ভেতরে যেকোনো জায়গায় শিশুটি আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বের কোথাও এমন কোনো প্রযুক্তি নেই যে এত গভীর গর্ত থেকে তাৎক্ষণিক কাউকে উদ্ধার করবে। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমরা পাশে গর্ত করে অনুসন্ধান চালাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, এত গভীরে পৌঁছাতে বিভিন্ন উন্নত দেশেও প্রায় ৭৫ থেকে ৭৮ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে ৩৫ ফুট পর্যন্ত গর্তে ক্যামেরা পাঠানো হলেও কিছু দেখা যায়নি। তবে বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস প্রায় ৪৫ ফুট পর্যন্ত নামতে পেরেছে এবং সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে বুধবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কয়েক দফা চেষ্টায় নলকূপের ৩০ ফুট গভীরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ক্যামেরা নামিয়েছিলেন।

কিন্তু ওপর থেকে পড়া মাটি ও খড়ের কারণে শিশুটিকে দেখা যায়নি। যদিও একই দিন দুপুরে শিশুটির কান্নার আওয়াজ শোনা গিয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান।শিশুটির মা রুনা খাতুন জানান, বুধবার দুপুর ১টার দিকে তিনি মেজো ছেলে সাজিদের হাত ধরে বাড়ির পাশের মাঠে যাচ্ছিলেন। হাঁটার সময় হঠাৎ পেছন থেকে সাজিদ ‘মা’ বলে ডেকে ওঠে। পেছনে তাকিয়ে দেখেন, ছেলে নেই, গর্তের ভেতর থেকে মা, মা বলে ডাকছে। তিনি জানান, গর্তটির ওপরে খড় বিছানো ছিল।

সেখানে যে গর্ত ছিল, তা তিনি নিজে কিংবা ছেলেও বুঝতে পারেনি। ওই জায়গায় পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছেলে গর্তের ভেতর পড়ে যায় এবং লোকজন ডাকাডাকি করতে করতেই সে গর্তের তলায় চলে যায়। স্থানীয়রা জানান, এক বছর আগে জমির মালিক কছির উদ্দিন সেচের জন্য সেমিডিপ নলকূপ বসাতে গিয়ে এই গর্তটি খনন করেছিলেন। কিন্তু পানি না পাওয়ায় কাজটি আর এগোয়নি এবং বিপজ্জনক এই গর্তটি খোলা অবস্থাতেই রয়ে যায়। গতকাল সেই অবহেলাই যেন দুই বছরের নিষ্পাপ সাজিদকে প্রাণসংকটে ফেলেছে।