ডিসেম্বর ১১, ২০২৫, ১০:০৩ পিএম
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া শিশু সাজিদকে প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর অবশেষে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মাটির ৫০ ফুট গভীর গর্ত থেকে তাকে বের করে আনেন।
উদ্ধারের পরপরই দ্রুত তাকে চিকিৎসার জন্য তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। এই অলৌকিক উদ্ধারের খবরে এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী শিশু সাজিদকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘ সময় ধরে গর্তের পাশে খনন এবং অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত রেখে এই জটিল উদ্ধার অভিযান সফল করা হয়। সাজিদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্ধারকাজে থাকা ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানান, তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে আশার কথা হলো, গর্তের ভেতরে খড় এবং নরম মাটি ছিল। ফলে তার শরীরে বড় ধরনের কোনো আঘাত ছিল না। এ কারণেই তারা সাজিদকে নিয়ে আশাবাদী এবং দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য প্রার্থনা করছেন।প্রসঙ্গত, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। শিশু সাজিদ তার মা ও ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ির পাশের একটি জমি পার হচ্ছিল।
জমিটি খড় দিয়ে ঢাকা থাকায় সাজিদের মা রুনা খাতুন জানতেন না যে খড়ের নিচেই রয়েছে একটি অরক্ষিত গভীর নলকূপের গর্ত। হাঁটার সময় হঠাৎ সাজিদ গর্তে পড়ে যায় এবং পেছন থেকে তার ‘মা মা’ চিৎকার শুনে মা ফিরে দেখেন সাজিদ নেই। খড় সরাতেই বেরিয়ে আসে সেই বিপজ্জনক গর্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর স্থানীয় এক ব্যক্তি এখানে গভীর নলকূপ স্থাপনের চেষ্টা করেন, কিন্তু ১২০ ফুট নিচেও পানি না পাওয়ায় পাইপটি পরিত্যক্ত অবস্থায় মুখ খোলা রেখেই ফেলে রাখা হয়।
কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বা ঢাকনা না থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। গত ৩২ ঘণ্টা ধরে গর্তের পাশেই নির্ঘুম রাত কাটান সাজিদের মা। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় চলে বিরামহীন কান্না ও দোয়া। অবশেষে সন্তানের জীবন ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন