বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

দাঁড়িপাল্লায় সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন এলডিপি নেতা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ১১:১৯ পিএম

দাঁড়িপাল্লায় সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন এলডিপি নেতা

চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছে। এই আসনে ১১ দলীয় জোটের একক প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলমকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপির প্রার্থী এম ইয়াকুব আলী। বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকায় নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানান। 

মূলত জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখা এবং নির্বাচনী কার্যক্রমের সময়স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে তিনি এই ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে পটিয়া আসনের ১১ দলীয় জোটের দীর্ঘদিনের প্রার্থিতা নিয়ে চলা অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সংবাদ সম্মেলনে এম ইয়াকুব আলী তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে বেশ কিছু বাস্তব কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান যে শুরু থেকেই তার মনোনয়ন নিয়ে এক ধরণের জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ঋণখেলাপির অভিযোগে শুরুতে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। 

পরবর্তীতে এই আইনি লড়াই দীর্ঘ হওয়ায় এবং নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতীক পেতে বিলম্ব হওয়ায় তিনি সময়মতো নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারেননি। ইয়াকুব আলী স্পষ্ট করেই বলেন যে নির্বাচনী মাঠে টিকে থাকার জন্য যে পরিমাণ প্রচারণার প্রয়োজন ছিল তা করার মতো পর্যাপ্ত সময় এখন তার হাতে নেই। এছাড়া ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কিছু সংবেদনশীল বিষয়ও তাকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছে। তবে জোটের বৃহত্তর স্বার্থে তিনি এখন জামায়াতের প্রার্থীর হয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পটিয়ার এই আসনটি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই ১১ দলীয় জোটের মধ্যে নানা আলোচনা চলছিল। শুরুতে এলডিপিকে এই আসনটি ছেড়ে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলমকে মাঠে নামায়। ইয়াকুব আলীর আজকের এই ঘোষণার পর তিনি এলডিপির সকল স্তরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা এখন থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেন। 

যদিও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও অনুযায়ী এখন আর আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ নেই তাই ব্যালট পেপারে এলডিপির প্রতীক থেকে যাবে। তবে রাজনৈতিকভাবে সমর্থন প্রত্যাহারের ফলে ভোটারদের কাছে বার্তাটি পরিষ্কার হয়ে গেল। এদিকে জামায়াত প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলমের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও তার সমর্থকরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।