বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

ইতালিয়ান মার্বেলে নির্মিত সিরাজগঞ্জের এই মসজিদ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম

ইতালিয়ান মার্বেলে নির্মিত সিরাজগঞ্জের এই মসজিদ

সিরাজগঞ্জের দৃষ্টিনন্দন মসজিদ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নির্দশন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি বর্তমানে জেলার অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। সিরাজগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে বেলকুচি পৌরসভার মুকন্দগাঁতী মহল্লায় সিরাজগঞ্জ-এনায়েতপুর সড়কের পাশেই আড়াই বিঘা জমির ওপর এই স্থাপনাটি গড়ে তোলা হয়েছে। 

প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে নির্মিত এই মসজিদটি যেমন আধুনিক তেমনি এর নির্মাণশৈলী যেকোনো পথচারীর দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম।মসজিদটির নির্মাণ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, স্থানীয় বিশিষ্ট শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী সরকার ২০১২ সালে এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।

 দীর্ঘ নয় বছরের নির্মাণযাত্রায় প্রতিদিন গড়ে অর্ধশতাধিক শ্রমিক এখানে কাজ করেছেন। তবে স্থাপনাটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ২০২০ সালের আগস্ট মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন। 

পরবর্তীতে তাঁর সুযোগ্য পুত্র আমান উল্লাহ সরকার পিতার অসম্পূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করেন। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে মসজিদের প্রতিটি ধাপে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কারুকাজ করা হয়েছে।দ্বিতল এই মসজিদের মূল আকর্ষণ হলো এর ওপরের বিশাল একটি প্রধান গম্বুজ এবং তার চারপাশে থাকা ছোট আটটি গম্বুজ। মসজিদের দুই পাশে ১১০ ফুট উচ্চতার দুটি সুউচ্চ মিনার আকাশ ছুঁতে চায়। ভবনের দেয়াল ও মেঝেতে ইতালি এবং ভারত থেকে আমদানি করা উচ্চমানের মার্বেল ও গ্রানাইট পাথর ব্যবহার করা হয়েছে যা স্থাপনাটিকে দিয়েছে এক রাজকীয় আবহ। 

মসজিদের ভেতরের সাদা পিলার ও জানালার কারুকাজ ইবাদত করতে আসা মুসল্লিদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়। প্রায় পাঁচ হাজার মুসল্লি এখানে একত্রে নামাজ আদায় করতে পারেন।মসজিদ চত্বরে মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রবেশপথের দুই পাশে কাঁচের আবরণে তৈরি অটো ফিল্টার পানির মাধ্যমে ওজুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

এছাড়াও ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য আলাদা থাকার কোয়ার্টার এবং একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার রয়েছে। রাতে বিশেষ আলোকসজ্জার কারণে মসজিদটি এক অপার্থিব রূপ ধারণ করে যা অনেক দূর থেকে দৃশ্যমান হয়। সিরাজগঞ্জের এই নান্দনিক স্থাপত্যটি এখন শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয় বরং দেশের স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।