মার্চ ১৩, ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
বাগেরহাটের মোংলায় এক পরিবারের ৯ সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে দুপুর ২টায় মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ হাজারো সাধারণ মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে মোংলা পৌর কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়।
এর আগে শুক্রবার সকাল থেকেই মোংলা পৌর শহরের সাত্তার লেনের ওই বাড়িতে মানুষের ঢল নামে। যে বাড়িতে কয়েকদিন আগে বিয়ের আনন্দ ছিল, সেখানেই সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় ৯ জনের মরদেহ। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আব্দুল বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান এবং রামপাল-মোংলা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম। এ সময় শোক প্রকাশ করেন পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী ড. ফরিদুল ইসলাম এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন পৌর বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে, মেয়ে, পুত্রবধূ এবং নাতি-নাতনিরা। খুলনা ও বাগেরহাটের রামপাল থেকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মরদেহগুলো মোংলায় আনা হয়। পরিবারের আরেক সদস্য আশরাফুল রহমান জনি মোটরসাইকেলে থাকায় প্রাণে বেঁচে গেলেও নিজের চোখে প্রিয়জনদের মৃত্যুর দৃশ্য দেখে নির্বাক হয়ে পড়েছেন। তার মা আঞ্জুমানয়ারা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন।
অন্যদিকে দুর্ঘটনায় নিহত নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতুসহ চারজনের মরদেহ রাতেই খুলনার কয়রায় পাঠানো হয়েছে। মাইক্রোবাস চালকের মরদেহ পাঠানো হয়েছে রামপালে। মোংলার ইতিহাসে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা আগে কখনো দেখেননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিয়ের খুশির আমেজ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেওয়ায় নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো জনপদ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন