শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

জ্বালানির দাম বাড়লেও কাটেনি সংকট, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১১:২৮ এএম

জ্বালানির দাম বাড়লেও কাটেনি সংকট, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

তেলের পাম্পে গ্রাহকদের ভিড়

দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক দফা বাড়ানোর পরও কাটেনি সংকট। বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে পাম্পগুলোতে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার অভিযোগ উঠেছে। নতুন করে নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি শুরু হলেও অনেক স্থানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। 

এই সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লুটছে একটি অসাধু চক্র।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর জামালপুর শহরের পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। সেখানে প্রতি লিটার অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিজেল ও কেরোসিনের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, পাম্প মালিকরা চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করছেন না।জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় পুরাতন মজুতকৃত তেল বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মেসার্স নুরুননাহার এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে গ্রাহকরা সরব হয়েছেন। মোটরসাইকেল চালকদের দাবি, আগে কেনা তেল পাম্পে মজুত থাকলেও সরকার ঘোষিত নতুন দাম কার্যকর হওয়ার আগে তা বিক্রি করা হয়নি। এখন সেই তেলই চড়া দামে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। 

একই চিত্র দেখা গেছে ফরিদপুরের ভাঙ্গায়। সেখানে ফিলিং স্টেশনগুলোয় প্রকাশ্যে তেল না দিয়ে ফোনে ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অসাধু ব্যবসায়ীরা ড্রাম ও গ্যালন নিয়ে আগেভাগে তেল সরিয়ে ফেলছেন, অথচ সাধারণ চালকরা গিয়ে পাম্পে তেল পাচ্ছেন না।

রংপুরের তারাগঞ্জ এলাকায় তেল সংকটকে পুঁজি করে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সেখানকার পাঁচটি পেট্রোল পাম্পে অনিয়ম এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সিন্ডিকেট সদস্যরা কৌশলে জেরিক্যান ভরে তেল সংগ্রহ করে পরে তা কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি করছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে নজরদারির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। 

এদিকে তেলের দাম বাড়ার জেরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ১৯ এপ্রিল থেকে নির্দিষ্ট ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা নিয়ে বাস শ্রমিক ও যাত্রীদের মধ্যে হাতাহাতি ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটছে নিয়মিত।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ডিজেল সংকটের কারণে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পাশে ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। শেরুয়া বটতলা থেকে ধুনট মোড় পর্যন্ত সার্ভিস লেনটি এখন ট্রাকের দখলে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পাম্পগুলো তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দূরপাল্লার ট্রাকচালক এবং স্থানীয় কৃষকরা। সেচের মৌসুমে ডিজেল না পাওয়ায় বোরো চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির দায়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির দায়ে ‘আরিফ ফুয়েল সাপ্লাই’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইভাবে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় অবৈধভাবে মজুত করা ৩০০ লিটার ডিজেল জব্দ করে তাৎক্ষণিকভাবে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করে দেয় প্রশাসন। 

ভোলার দৌলতখানে মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে কোস্ট গার্ড চার হাজার লিটার অবৈধ পেট্রোল জব্দ করেছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল বিক্রির দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক দণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন কঠোর অবস্থানের কথা জানালেও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে জনমনে সংশয় কাটছে না।