এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে জ্বালানি তেল নিতে আসা এক তরুণকে প্রকাশ্যে চপেটাঘাত ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহানের বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে উপজেলার চাপারহাটের একটি ফিলিং স্টেশনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতের বেলা এ ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ইউএনও এক আরোহীর শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করছেন এবং তাকে বেশ কয়েকটি থাপ্পড় মারছেন।ভুক্তভোগী নদী রায় পেশায় একজন মোটরসাইকেল গ্যারেজ কর্মচারী। তিনি জানান, অসুস্থ এক ব্যক্তির মোটরসাইকেল ও ফুয়েল কার্ড নিয়ে পেট্রোল নিতে পাম্পে গিয়েছিলেন।
দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর ইউএনও সেখানে এসে তার পরিচয় ও কার্ড যাচাই করেন। কার্ডের ছবির সঙ্গে চেহারার মিল না পাওয়ার অভিযোগে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই তাকে সবার সামনে লাঞ্ছিত করা হয়।
পরে তার মোটরসাইকেলের চাবিও কেড়ে নেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রতিবাদের মুখে প্রায় এক ঘণ্টা পর তার চাবি ফেরত দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।একই দিন উপজেলার তুষভাণ্ডার বাজারের আরেকটি পেট্রোল পাম্পেও ইউএনওর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা রক্ষার নামে বাইকারদের লাঠি হাতে শাসানোর অভিযোগ উঠেছে। সেখানে পাম্পের সামনে একটি মোটরসাইকেল ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটলে উপস্থিত জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামলাতে ইউএনওকে সাধারণ মানুষের তোপের মুখে পড়তে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে তাকে লাঠি হাতে বেশ মারমুখী ভঙ্গিতে দেখা গেছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণকে অনেকেই শিষ্টাচার বহির্ভূত বলে মন্তব্য করছেন।
তবে চপেটাঘাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, নিয়ম অমান্য করে লাইনে দাঁড়ানো এবং সঠিক কার্ড না থাকার কারণে তিনি কেবল মোটরসাইকেলের চাবিটি নিজের হেফাজতে নিয়েছিলেন। কারো গায়ে তিনি হাত তোলেননি বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে ওই তরুণের অভিভাবকরা এলে তাদের কাছে চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মূলত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সুশৃঙ্খল তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতেই তিনি মাঠে ছিলেন বলে জানান।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ মানুষ। একজন দায়িত্বশীল পদের কর্মকর্তার এমন মারমুখী আচরণ ও জনসমক্ষে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করার ঘটনাকে তারা দুঃখজনক বলে মনে করছেন। ভুক্তভোগীর মর্যাদা রক্ষা ও প্রকৃত ঘটনা তদন্তে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এই প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠনের খবর পাওয়া যায়নি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন