শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

গ্যাস বিস্ফোরণ একই পরিবারের ৫ জনেরই মৃ’ত্যু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৫, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

গ্যাস বিস্ফোরণ একই পরিবারের ৫ জনেরই মৃ’ত্যু

গ্যাস বিস্ফোরণে একটি পরিবারের বিদায়

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পাইপলাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে মা সালমা আক্তারের (৩২) মৃত্যুর মাধ্যমে এই পরিবারের শেষ প্রদীপটিও নিভে গেল। রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার থেকে আজ শুক্রবারের মধ্যে একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন পরিবারের বাবা, মা ও তাদের তিন সন্তান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার পরিবারের প্রধান আবুল কালাম (৩৫) প্রথম মারা যান। এরপর বুধবার মারা যায় তাদের ছোট মেয়ে কথা (৪)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বড় ছেলে মুন্না (১২) এবং দুপুরে মেজ মেয়ে মুন্নি (৭) মারা যায়। সর্বশেষ আজ সকালে মা সালমা আক্তারের মৃত্যু হয়।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, নিহতদের মধ্যে সালমা আক্তারের শরীরের ৬০ শতাংশ এবং মুন্নির ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই সবার অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত রোববার ভোরে ফতুল্লার উত্তর ভুঁইগড় গিরিধারা এলাকায় একটি নয়তলা ভবনের নিচতলায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাইপলাইনের লিকেজ থেকে রাতে ঘরের ভেতর গ্যাস জমে ছিল। ভোরে রান্নার জন্য চুলা জ্বালাতে গেলে বা বৈদ্যুতিক সুইচ অন করার সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুরো ঘরে আগুন ধরে যায়। এতে পরিবারের পাঁচ সদস্যই গুরুতর দগ্ধ হন।

নিহত আবুল কালাম পেশায় একজন সবজি বিক্রেতা ছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বরুকদিয়া এলাকায়। তারা জীবিকার তাগিদে নারায়ণগঞ্জের ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। একটি পাইপলাইনের লিকেজ থেকে একটি সুখী পরিবারের এই মর্মান্তিক পরিসমাপ্তিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।