মে ১৭, ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে শনিবার হাসপাতালের চিকিৎসক আকরাম এলাহী বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪৫ জনকে আসামি করে পালং মডেল থানায় মামলাটি করেন।
হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে হাসপাতালের সামনে ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কে আজ মানববন্ধন করা হয়েছে।রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা। তারা কর্মস্থলে সুষ্ঠু পরিবেশ, নিরাপত্তা ও আনসার সদস্য বৃদ্ধির দাবি জানান।
গত শুক্রবার রাতে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। এতে গুরুতর আহত হন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলাম।
পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শনিবার দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একদল হামলাকারী হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ডা. নাসির ইসলামকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধর করছে। হাসপাতালের করিডোর, বাইরের সড়ক ও পাশের গলিতেও তাকে মারধর করতে দেখা যায়। হামলাকারীরা কিল-ঘুষির পাশাপাশি লাঠি ও ইট দিয়েও আঘাত করে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে গেলে ডিউটিরত আনসার সদস্যদেরও মারধর করা হয়।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বুকের ব্যথা নিয়ে সদর উপজেলার বিলাসখান গ্রামের লাল মিয়া কাজীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার করেন। তবে পরিবারের সদস্যরা বন্ড সই দিয়ে রোগীকে রাতেই হাসপাতালে রেখে দেন।
পরে রাত ১টার দিকে রোগীর মৃত্যু হলে স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম ও সুপার রওনক জাহান শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। তারা আহত চিকিৎসকের খোঁজখবর নেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে পুলিশ সুপার জানান।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম জানান, হাসপাতালে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভুক্তভোগী ডা. নাসির ইসলাম সম্প্রতি ৪৮তম বিসিএস পরীক্ষায় হয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। তিন মাস আগে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দিলেও রোগীর চাপ বেশি থাকায় গত ২৩ এপ্রিল তাকে সংযুক্ত করা হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন