রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে ৯ জনের মৃত্যু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ৬, ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে ৯ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণের কারণে পৃথক চারটি ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮ রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ মোট ৯ জন নিহত হয়েছেন। রোববার রাতে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজার শহরের একটি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ঘটে।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তিনটি পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে বসতঘরের ওপর মাটি ধসে পড়ে মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) ও তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মৃত্যু হয়। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে রাত পৌনে ২টার দিকে কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ি ঢলে মাটিচাপায় সাত বছর বয়সী একরাম নামে এক রোহিঙ্গা শিশু নিহত হয়। তার বাবা মোহাম্মদ রশিদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা মরদেহটি উদ্ধার করেন।

সবশেষে রোববার রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড় ধসে নারী ও শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। নিহতরা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানিয়েছেন, পাহাড় ধসের ঝুঁকি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।

অন্যদিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় ভোর ৪টার দিকে পাহাড় ধসে আলী আকবর (৪২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।