জুলাই ৮, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
বৈরী আবহাওয়ার কারণে টানা চার দিন ধরে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। উত্তাল মেঘনা নদী ও বৈরী আবহাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিলেও, এর ফলে ঘাটে আটকে থাকা শত শত পণ্যবাহী যানবাহনের কাঁচামাল পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।নোয়াখালীর চেয়ারম্যান ঘাট এবং হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে বর্তমানে দুই শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান আটকা পড়ে আছে। তীব্র গরমে ও দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে পচনশীল পণ্যগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও ট্রাকচালকরা।
আটকে থাকা ট্রাকচালক আবদুল লতিফ জানান, চার দিন ধরে তিনি আলুসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে ঘাটে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু ফেরি ছাড়ার কোনো লক্ষণ নেই। দীর্ঘ সময় ট্রাকে থাকার কারণে পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হয়ে অর্ধেকের বেশি মাল নষ্ট হয়ে গেছে।ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, আবহাওয়ার পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে কোটি টাকার কাঁচামাল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। যার দায়ভার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের ওপর পড়বে। একদিকে পণ্য নষ্টের শঙ্কা, অন্যদিকে ঘাটে আবাসন ও খাবারের অভাব — সব মিলিয়ে চালক ও শ্রমিকদের দিন কাটছে চরম দুর্ভোগে।
পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক রাখতে ঝুঁকি নিয়েই সি-ট্রাক এমভি খিজির ও কয়েকটি ট্রলার চলাচল করলেও, তা পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়েই উত্তাল নদীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে পারাপার হচ্ছেন।ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদী উত্তাল থাকা এবং জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেরির পন্টুন ডুবে যাওয়ায় ল্যান্ডিং করা সম্ভব হচ্ছে না। নিরাপত্তার স্বার্থেই ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আটকে থাকা পণ্যবাহী গাড়িগুলো পারাপারের ব্যবস্থা করা হবে।
নোয়াখালী জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের কারণে নদী প্রচণ্ড উত্তাল রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফেরি চলাচল শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে উপকূলীয় নৌ বন্দর কর্তৃপক্ষ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন