সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা তথ্য, গুজব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার রুখতে গণমাধ্যমকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের আসাদুজ্জামান খান অডিটোরিয়ামে এক সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন। সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা, ফ্যাক্টচেকিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী দিনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অপতথ্য প্রতিরোধে গণমাধ্যমকর্মীদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। কর্মশালায় প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের যেকোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে সাংবাদিকরা নির্দ্বিধায় তা তুলে ধরবেন, তবে সেটি কোনোভাবেই অপপ্রচার বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্যের মাধ্যমে হওয়া চলবে না। বস্তুনিষ্ঠভাবে তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চাই সরকারের দুর্বলতা সংশোধনে সহায়ক হয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য কেবল সনদ প্রদান নয়, বরং মাঠপর্যায়ে তথ্য বিকৃতি ও অপতথ্য শনাক্তে গণমাধ্যমকর্মীদের সম্পূর্ণ দক্ষ করে তোলা। দেশে যেভাবে পরিকল্পিতভাবে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা প্রতিহত করতে সাংবাদিকদের অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।
ভুয়া পরিচয়ে ছড়ানো গুজবে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি নারীদেরও প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নানাভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে, যা সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। অনেকেই মূলধারার সাংবাদিক না হয়েও পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছেন, আবার অনেকে এআই দিয়ে বিকৃত ভিডিও তৈরি করছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষায় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে নানামুখী সহায়তা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই সহায়তা বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে সে সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মী প্রত্যেকেরই রাষ্ট্রের প্রতি সমান দায়িত্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন ইয়াসের খান চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত রাখার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের রাষ্ট্রকাঠামো ও অর্থনীতিকে চরম সংকটে ফেলা হয়েছিল। সেই অতীত ফ্যাসিবাদী শাসন যেন পুনরায় ফিরে আসতে না পারে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যেন অক্ষুণ্ণ থাকে, সেজন্য সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মুকিত সরকার, হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন এবং হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন