সুমন আহমেদ
নভেম্বর ৬, ২০২৫, ০৪:৪৭ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
দেশের শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলোর ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সারা দেশের মাত্র পাঁচজন প্রতিনিধিকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে স্থান পেয়েছেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার প্রতিনিধি রহিদুল মিয়া।গতকাল মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠানে তাঁকে ফুল দিয়ে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। সারাদেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে একমাত্র উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে এই সম্মাননা অর্জন করেন রহিদুল মিয়া, যা তাঁর জন্য ছিল গভীর গর্ব ও আনন্দের মুহূর্ত।রহিদুলের অনুভূতি ও চারণ সাংবাদিকতা
সম্মাননাপ্রাপ্তির পর অনুভূতি ব্যক্ত করে রহিদুল মিয়া বলেন, "এই সম্মান আমার কাছে শুধু একটি পুরস্কার নয়; এটি আমার মাটির প্রতি, আমার এলাকার মানুষের প্রতি এবং আমার পেশার প্রতি প্রথম আলো পরিবারের ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি।"পাঠকদের উদ্দেশ্য রহিদুল মিয়া বলেন, "আমি কৃষক বাবার সন্তান। যে হাতে লাঙল ধরে ভোরে মাঠে যাই, সেই হাতেই দুপুরে কি-বোর্ড ধরে মানুষের কথা লিখি। আমার কাছে মাটি আর মানুষ দুটোই সমান পবিত্র। আমার সমস্ত প্রতিবেদন সেই খেটে খাওয়া মানুষগুলোকে উৎসর্গীকৃত, যাদের জীবনযুদ্ধ আমাকে প্রতিদিন নতুন করে লিখতে শেখায়।
পুরস্কার ও স্বীকৃতিদীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে রহিদুল মিয়া এর আগে ২০০৭ ও ২০১০ সালে দু'বার 'দেশ সেরা প্রতিনিধি' এবং ২০০৯ সালে আরডিআরএস থেকে 'উন্নয়ন সাংবাদিকতা' পুরস্কার পেয়েছেন।তাঁর চারণ সাংবাদিকতা নিয়ে ২০১৩ সালের ৪ অক্টোবর প্রথম আলোর সম্পাদক আনিসুল হক 'যে হাতে লাঙল, সে হাতে কি-বোর্ড' শিরোনামে তাঁকে নিয়ে লিখেছিলেন। এছাড়া প্রথম আলোর উপবার্তা সম্পাদক তুহিন সাইফুল্লাহ, সিনিয়র সহসম্পাদক আবুল হাসনাতসহ আরও অনেকে তার কাজ নিয়ে প্রশংসা করেছেন।
রহিদুল মিয়ার সবচেয়ে পছন্দের সংবাদ হলো 'বিন্দু বিন্দু তেল, ফোঁটা ফোঁটা ঘাম'। এই সংবাদটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমার রিপোর্ট পড়ে যখন মকসুদার কলুর মতো অসহায় মানুষের পাশে সবাই দাঁড়ান, তাঁদের জীবন বদলে যায়—তখনই আমার সাংবাদিকতা সার্থক হয়। আমার কলম থাকবে মানুষের সেবায়, ইনশাআল্লাহ।"তিনি এই সম্মাননা উৎসর্গ করেছেন সহকর্মী, তারাগঞ্জের মানুষের প্রতি এবং প্রথম আলো পরিবারকে জানিয়েছেন আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।