মো: আরিফ ইসলাম
ডিসেম্বর ৪, ২০২৫, ০৪:৫৮ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আগাম শীতের প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হতে শুরু করায় লেপ-তোষক তৈরির বাজারে বাড়তি ব্যস্ততা দেখা দিয়েছে। রাতের বেলা ও ভোরের দিকে কনকনে উত্তরের হিমেল হাওয়া বইতে থাকায় উপজেলা জুড়ে শীত নিবারণের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা।
বর্তমানে ঘরে ঘরে লেপ-তোষক প্রস্তুত ও সংস্কার করতে কারিগরদের কাছে ভিড় বাড়ছে।উপজেলার পৌর শহরসহ পাল্টাপুর, মুকুন্দপুর।
সাতোর, শতগ্রাম ও মোহনপুর বাজারে লেপ-তোষক বানানো কারিগরদের এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে কাজের চাপে নাভিশ্বাস ওঠার মতো অবস্থা। সেলাই মেশিনের শব্দ আর তুলা মাড়াইয়ের কর্মযজ্ঞে শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট।
কারিগর মো. সুলতান (৬২) বলেন, "এ বছর আগাম ঠান্ডা পড়েছে। মানুষ লেপ-তোষক তৈরি করতে শুরু করেছে। বাড়িতে পুরোনো তুলা বের করে নতুন কাপড় কিনে কারিগরদের দিয়ে তৈরির অর্ডার দিচ্ছেন অনেকেই।"বীরগঞ্জ পৌর বাজারের লেপ-তোষক কারিগর মো. সাকিল মাহামুদ (২৮) বলেন, "এ বছর এখন পর্যন্ত কাজের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। আমরা প্রতিদিন ৬-৮টি লেপ-তোষক তৈরির অর্ডার পাচ্ছি। রাতে দেরি পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। তুলা, কাপড়ের দাম বাড়লেও মানুষের কাজের চাহিদা কমেনি। পুরোনো লেপ-তোষক সংস্কারের চাহিদাও বেশি। এবার আয় ভালো হবে বলে আশা করছি।
ক্রেতা কল্যান ঘোষ জানান, নিজের মতো করে তুলা ও কাপড় নির্বাচন করে দাম অনুযায়ী বানিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকায় ক্রেতারা সন্তুষ্ট।স্থানীয়ভাবে তৈরি লেপ-তোষক ভালো মানের ও টেকসই হওয়ায় বীরগঞ্জ ও আশপাশের মানুষের কাছে এগুলোর আলাদা কদর রয়েছে। কেউ কেউ অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ দিয়ে কাজ সামাল দিচ্ছেন। পাশাপাশি অনেক কারিগর পরিবার-পরিজনকে সহায়তায় যুক্ত করে বাড়তি আয়ের সুযোগ নিচ্ছেন।
সবশেষে বলা যায়—আগাম শীতের আগমন বীরগঞ্জে এনে দিয়েছে কর্মচাঞ্চল্য ও জীবিকার বাড়তি সুযোগ। কারিগরদের প্রত্যাশা, শীত যত তীব্র হবে, ততই জমবে লেপ-তোষকের বাজার।