ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫, ১১:৩৪ পিএম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর নিজ জেলা দিনাজপুরে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর থেকে প্রিয় নেত্রীকে হারানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে শহরের গনেশতলাস্থ বিএনপি কার্যালয়ে ভিড় জমান।
দিনাজপুরের ‘কন্যা’ হিসেবে পরিচিত এই মহান নেত্রীর প্রয়াণে শোকাতুর দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন তিনি আমাদের অভিভাবক ছিলেন।
তাঁর প্রার্থী ঘোষণার পর আমরা তাঁকে বিজয়ী করে সংসদে পাঠানোর জন্য মুখিয়ে ছিলাম, কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল। তাঁর মৃত্যুতে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হলো।
সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহম্মেদ কচি ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মোকাররম হোসেন জানান, দিনাজপুরের অনেক উন্নয়ন তাঁর হাত ধরেই হয়েছে, তাঁর অভাব কোনোদিন পূরণ হবার নয়।শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত ‘তৈয়বা ভিলা’ এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার পৈতৃক নিবাস বালুবাড়ীর ‘তৈয়বা ভিলা’য় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। প্রিয় ‘পুতুল’ আপার বিদায়ে তাঁর স্বজন ও এলাকাবাসী কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। বাড়ির দোতলায় বেগম জিয়ার বাবা ইসকান্দার মির্জা ও মা তৈয়বা মজুমদারের স্মৃতিবিজড়িত কক্ষগুলো আজ তালাবদ্ধ।
পৈতৃক ভিটায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তাঁর আত্মার শান্তির কামনায় অনবরত কোরআন তেলাওয়াত করছেন।বেগম খালেদা জিয়ার খালাতো ভাই আবু তাহের ও পারভিন লাকি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, খালেদা আপা অত্যন্ত নিরহংকার মানুষ ছিলেন। এই বালুবাড়িতেই তাঁর বেড়ে ওঠা। উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া ১৯৫৪ সালে দিনাজপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৬০ সালে সেখান থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। পরে তিনি সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।
১৯৬০ সালের ৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর তৎকালীন ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সাথে এই মুদিপাড়ার পিত্রালয়েই তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। বিয়ের প্রথম চার বছরও তিনি দিনাজপুরে কাটিয়েছিলেন। সর্বশেষ ২০০৬ সালের ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দিনাজপুর সফর করেছিলেন। আজ সেই স্মৃতিঘেরা ‘তৈয়বা ভিলা’র আঙিনায় কেবলই শূন্যতা আর দীর্ঘশ্বাস।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন