মো: মামুনুর রশিদ
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
বিদ্যা, বাণী ও সুরের দেবী সরস্বতীর আরাধনার মধ্য দিয়ে দিনাজপুরে উদযাপিত হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশে দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, মাঘ মাসের শুক্লাপঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়, যা ‘বসন্ত পঞ্চমী’ নামেও পরিচিত। এ বছর ২২ জানুয়ারি দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে পূজার তিথি শুরু হয়েছে, যা থাকবে আজ (২৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত।
দিনটি উপলক্ষে দিনাজপুরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সেজেছে বর্ণিল সাজে। সকালে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পূজা শেষে ভক্তরা অঞ্জলি গ্রহণ করেন। বিশেষ করে শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী ‘হাতেখড়ি’ অনুষ্ঠান, যার মাধ্যমে শিশুরা বিদ্যার জগতে প্রথম প্রবেশ করে।
সনাতন ধর্মমতে, প্রাচীনকালে তান্ত্রিক সাধকেরা সরস্বতী সদৃশ দেবী বাগেশ্বরীর পূজা করতেন। কালক্রমে পৌরাণিক প্রভাব ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিদ্যা, সংগীত ও শিল্পকলার দেবী হিসেবে সরস্বতী পূজার প্রসার ঘটে। আধুনিক যুগে এটি বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের প্রধান উৎসবে পরিণত হয়েছে।
দিনাজপুরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। বাংলাদেশ যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, তা এই উৎসবে আবারও প্রতিফলিত হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সামাজিক সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য একসূত্রে মিলিত হয়ে উৎসবটি সার্বজনীন রূপ নিয়েছে।