বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

হাবিপ্রবিতে অমর একুশে ও ভাষা দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম

হাবিপ্রবিতে অমর একুশে ও ভাষা দিবস পালিত

হাবিপ্রবিতে শহিদদের শ্রদ্ধা :ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতভাবে উত্তোলন করা হয়। 

সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা এর নেতৃত্বে প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবিরের উপস্থিতিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। 

কালো ব্যাজ ধারণ শেষে এক বর্ণাঢ্য প্রভাত ফেরি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। প্রভাত ফেরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

প্রভাত ফেরি শেষে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা শহিদদের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তাঁর সাথে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান, প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. শামসুজ্জোহা এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. এস. এম. এমদাদুল হাসানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে ডিন কাউন্সিল, হল সুপার কাউন্সিল, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদ, ইউট্যাব, জিয়া পরিষদ, সাদা দল, অফিসার্স ফোরাম এবং জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। 

এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিএনসিসি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়।পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে ভাইস চ্যান্সেলরের বিশেষ বাণী পাঠ করা হয়। তাঁর বাণীতে উপাচার্য গভীর শ্রদ্ধার সাথে ১৯৫২ সালের ভাষা শহিদ সালাম, রফিক, শফিক, বরকত ও জব্বারসহ সকল ভাষা সৈনিকের অবদান স্মরণ করেন। তিনি বলেন, মাতৃভাষার জন্য জীবন বিসর্জন পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।

 একুশে ফেব্রুয়ারি একদিকে যেমন শোক ও বেদনার, অন্যদিকে অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে আপোষহীন প্রেরণার উৎস। বাণীতে তিনি ৫২’র ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সাথে একসূত্রে গেঁথেছেন। তিনি আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও রাহুলসহ জুলাই বিপ্লবের সকল শহিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রের সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অপসংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে মুক্ত হয়ে নিজস্ব সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের বিকাশে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একুশ, একাত্তর ও চব্বিশের শহিদদের মহান আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও আত্মমর্যাদাশীল সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি পালনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার মর্যাদা অটুট রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।