মার্চ ৫, ২০২৬, ১১:২৬ পিএম
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের উদ্যোগে আজ ০৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ধারাবাহিক এই অভিযানের অংশ হিসেবে কাহারোল হসপিটাল মোড় এলাকায় অবস্থিত প্রাইম ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং এর তৎসংলগ্ন মাস্টার ফার্মেসিতে পরিদর্শন পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মামুন অর রশীদ। স্বাস্থ্য সেবার মান নিশ্চিত করতে এবং সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়নে এই পরিদর্শন চালানো হয়।
পরিদর্শনকালে কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠান দুটির নথিপত্র এবং সেবার পরিবেশ যাচাই করেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা কর্তৃক ইস্যুকৃত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা নীতিমালার আলোকে প্রাইম ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিভিন্ন ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়।
এ সময় কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে, নীতিমালার সকল শর্ত পূরণ না করা এবং পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যক্রম চালানো যাবে না। লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।একই সময়ে হসপিটাল মোড় এলাকার মাস্টার ফার্মেসিতেও তদারকি চালানো হয়। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির ওষুধ বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ ড্রাগ লাইসেন্স নেই।
একটি ফার্মেসি পরিচালনার ক্ষেত্রে ড্রাগ লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হলেও তার অনুপস্থিতি পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মাস্টার ফার্মেসির কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্টদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি প্রশাসনের এই নির্দেশ অমান্য করে কার্যক্রম সচল রাখা হয়, তবে পরবর্তীতে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্বাস্থ্য সেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযান পরিচালনার সময় কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. সামিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে এলাকার লাইসেন্সবিহীন অন্যান্য ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের মধ্যে সতর্কতা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্য বিভাগের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন