রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তেল না দেওয়া ও ওজনে কারচুপি:পাম্পে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম

তেল না দেওয়া ও ওজনে কারচুপি:পাম্পে জরিমানা

বিরামপুরে পাম্পে জরিমানা ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহে অনিয়ম ও পরিমাপে কারচুপির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে দুইটি ফিলিং স্টেশনকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রোববার দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।বিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া নওরিনের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

 অভিযানে কারিগরি ও আইনি সহায়তার জন্য উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা বিএসটিআই-এর মেট্রোলজি পরিদর্শক মীর মো. সাইফ আলী। আদালত পরিচালনায় পেশকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির জিলকাদ হোসেন।

অভিযান চলাকালীন বিরামপুর উপজেলার দিওড় ইউনিয়নে অবস্থিত মমতাজ তেলের পাম্পে বিশেষ তল্লাশি চালানো হয়। পাম্পটির প্রোপাইটার মোবাশ্বের আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি নির্ধারিত রিজার্ভের চেয়ে বেশি তেল মজুদ রেখেও সাধারণ গ্রাহকদের তেল সরবরাহ করতে গড়িমসি করছিলেন। 

এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪৫ ধারায় তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।একই দিনে বিরামপুর পৌর এলাকার শারমিন ফিলিং স্টেশনেও হানা দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে তেলের মাপ পরীক্ষা করে দেখা যায়, গ্রাহকদের প্রতি লিটারে তেল কম দেওয়া হচ্ছে। ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ এর ৪৬ ধারায় পাম্পের মালিক মোজাম্মেল হোসেনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাম্পটিতে তেলের পরিমাপে বড় ধরনের কারচুপির প্রমাণ পান বিএসটিআই কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং ওজনে সঠিক মান নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। বিরামপুর কলেজ বাজার এলাকার মেসার্স বিরামপুর ফিলিং স্টেশনেও তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়। সেখানে ট্যাগ অফিসার হিসেবে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এনামুল হক চৌধুরী।সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিয়া নওরিন জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুদ রেখে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছেন এবং ওজনে কম দিচ্ছেন। 

এমন জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে নিয়মিতভাবে বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলেও তিনি জানান। প্রশাসনের এমন তৎপরতায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, নিয়মিত তদারকি থাকলে তেলের বাজারে এমন কারচুপি কমে আসবে। সংশ্লিষ্ট পাম্প মালিকদের ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার জন্য কড়া নির্দেশনা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।