রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিতে দীপশিখার প্রতীকী ঘণ্টা ধ্বনি

মো: মামুনুর রশিদ

এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিতে দীপশিখার প্রতীকী ঘণ্টা ধ্বনি

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরে প্রতিবন্ধী শিশু ও যুবদের একীভূত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক প্রবেশগম্যতা উন্নয়নের দাবিতে প্রতীকীভাবে স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দীপশিখা দিনাজপুরের উদ্যোগে এবং লিলিয়ান ফন্ডস ও সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্টের (সিডিডি) সহযোগিতায় গত ২২ এপ্রিল বুধবার এই কর্মসূচি পালিত হয়। 

মূলত প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মূলধারার শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি নিয়ে জেলার কাহারোল ও বিরল উপজেলার ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে এই প্রচারণা চালানো হয়।আয়োজক সূত্র জানায় যে দ্য মিনিংফুল পার্টিসিপেশন অ্যান্ড ইনক্লুশন অফ চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়থস উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিস প্রকল্পের অধীনে এই ক্যাম্পেইনটি পরিচালিত হয়েছে। 

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঈশানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বিরল উপজেলার রাজুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, সিংগুইল হামিদ হামিদা উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তর মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং দীপশিখা মেটি স্কুলে এই কর্মসূচি উদযাপিত হয়।

 অংশগ্রহণকারী প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবক এক মিনিট ধরে প্রতীকীভাবে স্কুলের ঘণ্টা বাজান। এই ঘণ্টা ধ্বনির মাধ্যমে সকল শিশুর জন্য মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করার বৈশ্বিক আহ্বান জানানো হয়।কর্মসূচি চলাকালীন প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযানও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে স্থানীয় কমিউনিটি ইন্টার্ন এবং ইয়থ ক্লাবের সদস্যরা একীভূত শিক্ষার পক্ষে তাদের লিখিত সমর্থন ব্যক্ত করেন। স্থানীয় শিক্ষকরা জানান যে এই ধরনের কর্মসূচির ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিবন্ধী সহপাঠীদের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মনোভাব তৈরি হবে। 

বক্তারা তাঁদের আলোচনায় উল্লেখ করেন যে প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়, বরং মানসিকতার পরিবর্তন আনা জরুরি। বিশেষ করে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের যাতায়াত সহজতর করার দাবি তোলা হয়।দীপশিখার কর্মকর্তারা জানান যে প্রতিবন্ধী শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একীভূত শিক্ষা কার্যক্রম সফল হলে সমাজে একটি ইতিবাচক ও বৈষম্যহীন পরিবর্তন আসবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য আরও বেশি সহায়ক পরিবেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এমন প্রচারণা গ্রামীণ জনপদে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। দিনব্যাপী এই আয়োজনে দীপশিখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে একীভূত শিক্ষার আন্দোলনকে বেগবান করার আহ্বান জানান।