মে ৬, ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
দিনাজপুরের বিরলে হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়ে ২০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে এবং অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুধবার (৬ মে) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার ধামইর, বিজোড়া ও ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের ওপর দিয়ে এই শক্তিশালী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ের ফলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন থাকায় জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়টি উপজেলার ধামইর ইউনিয়নের বাজনাহার, বিজোড়া ইউনিয়নের ভবানীপুর ও যুগীহারী এবং ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের তেঘরা নারায়ণপুর ও তেঘরা মহেশপুর গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
ঝড়ের তীব্রতায় ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের বাজনাহার এলাকায় ৫টি এবং ভবানীপুর বানিয়াপাড়া এলাকায় ১৫টি খুঁটি মাটিতে হেলে পড়ে। এতে দুপুর থেকে ওই এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
তেঘরা নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ জানান, ঝড়ে তাঁর বাড়িসহ আশপাশের অন্তত অর্ধশতাধিক বাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে গেছে। গাছপালা ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ ও বাসস্থানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর সময় পার করছে।দিনাজপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বিরল জোনাল অফিসের ডিজিএম আব্দুর রশিদ জানান, ঝড়ে সঞ্চালন লাইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে কর্মীরা সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনেক গ্রাম বিদ্যুৎহীন থাকতে পারে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিমরান মোহাম্মদ সায়েক ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রদান করেন। প্রতিবেদনটি লেখাকালীন অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন