সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬,

বীরগঞ্জে ডাক্তারখানা মাঠ দখলমুক্ত

জাহিদ হাসান

অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

বীরগঞ্জে ডাক্তারখানা মাঠ দখলমুক্ত

ছবি: দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ডাক্তারখানা মাঠের দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল ও স্থাপনা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত টানা ছয় ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে মাঠের ১ একর ৪৪ শতক মূল্যবান জমি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করা হয়।

অভিযানে ফলের দোকান ও খাবার হোটেলসহ ৮৪টি অবৈধ দোকানঘর ও বিভিন্ন অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী এই সরকারি জমিতে পাকা ও আধা-পাকা স্থাপনা তৈরি করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. মনজুরুল ইসলামের বিশেষ উদ্যোগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপে জায়গাটি উদ্ধার হওয়ায় মাঠটির সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। পৌরবাসীর জোর দাবি, এই উদ্যোগ যেন কেবল উচ্ছেদের মধ্যেই থেমে না থাকে; বরং দ্রুত একটি সমন্বিত জনকল্যাণমূলক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্থানীয়দের কাছে ডাক্তারখানা মাঠ নিছক কোনো খালি ভূসম্পত্তি নয়; এটি বীরগঞ্জের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও নাগরিক জনস্বার্থের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত এই মাঠের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সাত থেকে আটবার প্রশাসনিক অভিযান পরিচালিত হলেও পরবর্তীতে তদারকির অভাবে তা বারবার বেদখল হয়ে যায়।

এই সংকট নিরসনে চলতি বছরের ১৮ মে দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন দুলাল এবং বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন সরেজমিনে মাঠটি পরিদর্শন করেছিলেন। পরবর্তীতে ১ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর টিভি ডট কম-এ প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও মাঠটি উদ্ধার ও আধুনিকায়নের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।

সোমবার পরিচালিত এই সাঁড়াশি অভিযানে পৌর এলাকার প্রধান মহাসড়কের শহিদ মিনার মোড় থেকে শুরু করে তাজমহল মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত অংশের সব অবৈধ দোকানঘর, স্থানীয় যানবাহনের শ্রমিক কার্যালয় ও পরিবহন স্ট্যান্ড ভেঙে উচ্ছেদ করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুর মোর্শেদ। তিনি জানান, উদ্ধারকৃত এই ভূসম্পত্তির মূল স্বত্বাধিকারী দিনাজপুর জেলা পরিষদ। মাঠটি পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে মহাসড়ক সংলগ্ন পুরো অংশ অবমুক্ত করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে মাইকিং করে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা দেওয়ায় অধিকাংশ ব্যবসায়ী নিজ দায়িত্বে স্থাপনা সরিয়ে নেন। ফলে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর সংঘাত ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে অভিযান সম্পন্ন হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর বাদশা রনির নেতৃত্বে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস, পৌরসভা এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কার্যক্রমে অংশ নেন।

অভিযানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি উদ্ধার হলেও এর সঙ্গে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর রুটি-রুজির সংকট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা হারিয়ে অনেক পরিবার আকস্মিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ফলে স্থানীয় সচেতন মহল সরকারি জমি সংরক্ষণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নীতিমালা অনুযায়ী পুনর্বাসন বা বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে মানবিক বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

উদ্ধারকৃত জমিতে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, জমির মূল মালিক জেলা পরিষদ এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে এখানে টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। বীরগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, অতীতে উচ্ছেদের পর পুনরায় বেদখল হওয়ার যে তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা ও স্থায়ী নাগরিক সুবিধার অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।