সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬,

চুরিতে বাধা দেওয়ায় নৈশপ্রহরী হত্যা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

মো: মামুনুর রশিদ

অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ০২:২২ পিএম

চুরিতে বাধা দেওয়ায় নৈশপ্রহরী হত্যা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ছবি: দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুর শহরের সিপাহীপাড়া এলাকায় নির্মাণকাজের ভারী যন্ত্র ভেকুর ব্যাটারি চুরির চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় টিটু শিকদার নামের এক নৈশপ্রহরীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামির নাম রাফি ওরফে রিজন মোল্লা। পঁচিশ বছর বয়সী এই তরুণ দিনাজপুর পৌরসভার দক্ষিণ বালুবাড়ী সিপাহীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। সোমবার কোতোয়ালি থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে দিনাজপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ইসলামবাগ জামে মসজিদের পূর্ব পাশে একটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছিল। সেখানে রাখা ভেকু ও যাবতীয় নির্মাণসামগ্রী পাহারার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন ছত্রিশ বছর বয়সী টিটু শিকদার। গত ২১ অক্টোবর রাতে তার বড় ভাই রাতের খাবার খেতে বাড়ি গেলে টিটু একাই কর্মস্থলে অবস্থান করছিলেন।

পরবর্তীতে ২২ অক্টোবর রাত আনুমানিক একটার দিকে কালভার্টের দক্ষিণ পাশে থাকা ভেকুর ব্যাটারি চুরির চেষ্টা চালায় রাফি ও তার সঙ্গে থাকা আরও দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি। টিটু ঘটনাটি দেখতে পেয়ে তাদের প্রতিহত করতে এগিয়ে গেলে ধারালো ছুরি দিয়ে তার ওপর আক্রমণ চালানো হয়। হামলাকারীরা তার তলপেটের বাম পাশে উপর্যুপরি দুটি গভীর আঘাত করে।

টিটুর চিৎকারে তার বড় ভাই ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

গুরুতর জখম অবস্থায় টিটুকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ অক্টোবর রাত চারটা সাত মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত প্রহরীর বড় ভাই বাদী হয়ে ২২ অক্টোবর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৫৯, যার জিআর নম্বর ৮৭৩/২৬। মামলায় রাফিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসার নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) মো. আনোয়ার হোসেনের সমন্বয়ে অভিযান শুরু হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আবদুল হালিমের নেতৃত্বে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের একটি যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুর পৌরসভার রেলব্রিজ এলাকার একটি গলি থেকে রাফিকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামির জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করার জন্য তাকে আদালতে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে এই অপরাধের পেছনে থাকা অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।