মোঃ মোমিনুল ইসলাম
অক্টোবর ১৭, ২০২৫, ১২:১২ এএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা উত্তোলনের কারণে পার্শ্ববর্তী পাতরাপাড়াসহ ১৩টি গ্রামে ভয়াবহ ভূমিধস দেখা দিয়েছে। গ্রামের বাড়িঘর, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট প্রতিনিয়ত দেবে যাওয়ায় হাজারো পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। যেকোনো মুহূর্তে পুরো এলাকা খনিগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় গ্রামবাসীদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
এই সংকটময় পরিস্থিতি তুলে ধরতে এবং প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে আজ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে "বসত বাড়ী রক্ষা কমিটি, পাতরা পাড়া"।

বসতবাড়ি রক্ষা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কয়লা উত্তোলনের ফলে খনির পূর্বাংশে অবস্থিত পাতরাপাড়া গ্রামের মাটি ইতোমধ্যে প্রায় ১ থেকে ১.৫ ফুট নিচে দেবে গেছে। গভীর রাতে মাটি দেবে যাওয়ার শব্দে বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি আরও জানান, গ্রামের পশ্চিমাংশের একটি বড় এলাকা ইতোমধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ ফুট দেবে গিয়ে বিশাল জলাশয়ে পরিণত হয়েছে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও তারা কোনো স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়নি। অতীতে ফাটলের জন্য নামমাত্র ক্ষতিপূরণ দিলেও ভূমিধস রোধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। কমিটির অভিযোগ, খনির মাইনিং জিএম আশ্বাস দিয়েও এলাকাবাসীকে ধোঁকা দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।
শহিদুল নামে একজন গ্রামবাসী বলেন, "বাড়িতে ফাটল ও দেবে যাওয়ার কারণে আমাদের প্রতিটি রাত কাটছে নির্ঘুম। যেকোনো মুহূর্তে একটি বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা করছি।" তিনি বলেন, খনি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও এই উন্নয়নের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
সমস্যার স্থায়ী সমাধানে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে কমিটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছে:
১. ভূমিধস ও ফাটলের স্থায়ী সমাধান এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা। ২. ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জন্য নতুন ও টেকসই পাকা রাস্তা নির্মাণ করা। ৩. এলাকায় নিরাপদ ও সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা। ৪. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বেকার যুবকদের খনিতে চাকরির ব্যবস্থা করা।
গ্রামবাসী আবজাল বলেন, "আমরা আর প্রতিশ্রুতি বা আশ্বাস চাই না, আমরা এর কার্যকর বাস্তবায়ন চাই। আমাদের জীবন ও সম্পদ নিয়ে আর কোনো অবহেলা সহ্য করব না।"
এদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু তৈয়ব ফারাজি বলেছেন, মাটি দেবে যাওয়ার বিষয়টি পেট্রোবাংলাকে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য একটি কমিটি রয়েছে এবং পেট্রোবাংলা ক্ষতিপূরণ দিলেই ক্ষতিগ্রস্তরা তা পাবেন।
কমিটির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, দাবি মেনে না নেওয়া হলে আগামীতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।