শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

মাছ মুরগি ও তেলের দাম চড়া, হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম

মাছ মুরগি ও তেলের দাম চড়া, হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ

ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের বাজার

রাজধানীর বাজারগুলোতে মাছ, মুরগি, ভোজ্যতেল ও সবজিসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক বছরের ব্যবধানে অনেক পণ্যের দাম দেড় গুণ পর্যন্ত বাড়লেও সাধারণ মানুষের আয় সেই হারে বাড়েনি। এর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। নিত্যদিনের খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার এখন খাদ্যতালিকায় বড় ধরনের কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে। 

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সীমিত আয়ের মানুষেরা প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে যেসব মাছ বা মুরগি বেশি কেনেন, এখন সেগুলোর দামও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বাজারের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, এক বছর আগে যে সোনালি মুরগির কেজি ছিল ২৩০ থেকে ২৬০ টাকা, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা দরে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে প্রায় দেড়শ টাকা। গত এক মাসের হিসেবেই সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে অন্তত ১০০ টাকা। 

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, বাচ্চার দাম ও মুরগির খাদ্যের চড়া দামের কারণে অনেক খামারি উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন রোগের কারণেও অনেক মুরগি মারা গেছে, যার ফলে সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। তবে সাধারণ ক্রেতারা ব্যবসায়ীদের এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন। মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের বাসিন্দা আসিফ হোসেন জানান, ব্যবসায়ীরা সরবরাহের অজুহাত দেখিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাতারাতি দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

মাছের বাজারেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। মাঝারি আকারের রুই মাছ যা আগে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ৩৫০ টাকার নিচে কল্পনাও করা যায় না। আকারে একটু বড় হলেই রুইয়ের দাম ৪০০ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। শুধু রুই নয়, নিম্ন আয়ের মানুষের ভরসা তেলাপিয়া, কই ও পাঙাশ মাছের দামও এখন উর্ধ্বমুখী। বর্তমানে এসব মাছের কেজি ২২০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চাষের শিং বা পাবদা মাছের কেজি ঠেকেছে ৫০০ টাকায়। গ্রীষ্মের নতুন সবজি যেমন চিচিঙ্গা, ঝিঙে বা ঢ্যাঁড়স বাজারে এলেও সেগুলোর দামও বেশ চড়া। বিক্রেতারা আশা করছেন সরবরাহ বাড়লে সবজির দাম কিছুটা কমতে পারে।

ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা যেন কাটছেই না। কোম্পানিগুলো ডিলার পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৩ থেকে ৪ টাকা বাড়িয়েছে। ফলে বাজারে বোতলজাত তেলের সংকটও দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খোলা সয়াবিন তেলের ওপর, যার দাম লিটারে অন্তত ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। চিনির বাজারেও অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। খুচরা পর্যায়ে এক কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় অন্তত ৫ টাকা বেশি। সয়াবিন তেলের সংকট নিয়ে আগারগাঁও তালতলা বাজারের ক্রেতা হাজি সালাউদ্দিন বলেন, গত দুই দিন ঘুরে তিনি মাত্র পাঁচ লিটারের এক বোতল তেল কিনতে পেরেছেন। যে তেল আগে ৯৪৫ টাকায় কেনা যেত, এখন তা ৯৫৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপণ্যের এই আকাশছোঁয়া দামের কারণে মানুষ তাদের প্রাত্যহিক খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক পরিবার মাছ বা মাংসের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে সবজি দিয়ে কাজ চালানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু সবজির দামও চড়া থাকায় সেখানেও শান্তি মিলছে না। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি ও বাজার তদারকির অভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের মতে, নিয়মিত বাজার অভিযান ও সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। আয়ের তুলনায় ব্যয়ের এই বিশাল ফারাক মধ্যবিত্ত সমাজকে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।