বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পক্ষে সিডিপি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ২, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পক্ষে সিডিপি

স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আগামী ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর বিশেষ প্রস্তাবের প্রতি আনুষ্ঠানিক ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি বা সিডিপি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে এক বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছেন যে কমিটির নিবিড় মূল্যায়ন অনুযায়ী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক এই সময়সীমা বৃদ্ধি করা সম্পূর্ণ যথাযথ হবে। 

মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সিডিপির এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে প্রস্তুতিকাল সম্প্রসারণের এই সুযোগটি বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামোর জন্য অত্যন্ত বড় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।সিডিপি তাদের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নে উল্লেখ করেছে যে অতিরিক্ত এই সময়কে দেশের বিদ্যমান কাঠামোগত সংকট মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়নের একটি সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। 

তাদের মতে, এই বর্ধিত সময়সীমা কোনোভাবেই চলমান সংস্কার কার্যক্রম শিথিল করার কারণ হতে পারে না, বরং তা পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে আরও বেশি গতিশীল করার অন্যতম অনুঘটক হবে। সিডিপির বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য নির্ধারিত তিনটি সূচকের প্রতিটিতেই প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সীমা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।নিকট ও মধ্যমেয়াদে বাংলাদেশের এই গৌরবময় অর্থনৈতিক অর্জন থেকে পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে আন্তর্জাতিক এই মূল্যায়ন কমিটি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেছে।

তবে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তীব্র সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে কিছু সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকির কথাও সতর্কতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে। সিডিপি বিশেষভাবে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ শক্তিশালীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে নতুন বাস্তবতার উপযোগী করার ওপর জোর দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের এই ইতিবাচক মূল্যায়ন ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশকে স্বাগত জানিয়ে চলমান অভ্যন্তরীণ সংস্কার কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় একটি টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।