শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দাম বাড়ছে ও কমছে যেসব পণ্যের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১১, ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দাম বাড়ছে ও কমছে যেসব পণ্যের

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশের পর শুল্ক ও করের পরিবর্তনের কারণে বেশ কিছু জরুরি পণ্য ও সেবার দাম কমছে ও বাড়ছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ৫৫তম এই মেগা বাজেট প্রস্তাবনা পেশ করা শুরু করেন। বর্তমান নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের এই মেয়াদের প্রথম বাজেটে দেশের স্থানীয় শিল্প ও সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করে বিভিন্ন খাতে ব্যাপক শুল্ককর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। 

আবার অপরদিকে রাজস্বের পরিধি বাড়াতে এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানিতে নিরুৎসাহিত করতে বেশ কিছু পণ্য ও বিলাসী সেবার ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।বাজেটের এই শুল্ককর সংক্রান্ত নতুন আইনি প্রস্তাব ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই দেশজুড়ে সরাসরি কার্যকর হয়ে যায়।সার্বিক বিশ্লেষণ ও পণ্যের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে এবারের প্রস্তাবিত মেগা বাজেটে শুল্ককর কমানো পণ্যের সংখ্যাই তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। তবে তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমাতে এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সিগারেটের সবকটি মূল্যস্তরে ন্যূনতম খুচরা মূল্য ও সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

এর পাশাপাশি নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচের মতো ক্ষতিকর সামগ্রীর ওপর ৩৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিশাল উচ্চ সম্পূরক শুল্ক বসানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। পরিবেশ দূষণ রোধ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসির সব ধরনের তেলচালিত ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিনের আমদানি করা গাড়ির করভার ১৩২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৬ শতাংশ করার প্রস্তাব এসেছে।

দেশীয় কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প ও স্থানীয় চাষিদের সরাসরি সুরক্ষা দিতে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত অপ্রক্রিয়াজাত ও প্রক্রিয়াজাত সব ধরনের কাজুবাদামের ওপর আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে এক লাফে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশীয় মৎস চাষিদের সুবিধার্থে বিদেশি পাঙাশ মাছের ফিলেটের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং এলপিজি সিলিন্ডার আমদানিতে ভ্যাট বসানোর কারণে এসব পণ্যের স্থানীয় বাজারমূল্য অনেকটাই বাড়তে পারে। রড তৈরির বিভিন্ন প্রধান উপকরণের ওপর করের বোঝা বাড়ায় গৃহনির্মাণ সামগ্রীর অন্যতম প্রধান উপাদান রডের দাম বৃদ্ধির পরিষ্কার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিদেশি টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার, বেসিন, ফেসওয়াশ, লিপ লাইনার ও মাইক্রোওয়েভ ওভেনের শুল্কায়নমূল্য বৃদ্ধির ফলে প্রসাধন ও গৃহস্থালি পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে যেতে পারে।

তবে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের ভোক্তাদের জন্য বড় স্বস্তি এনে চাল, ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল ও চিনিসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর বিদ্যমান উৎসে করের হার সর্বনিম্ন স্তরে অর্থাৎ মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার ঐতিহাসিক প্রস্তাব করা হয়েছে।

শৈশবকালীন পুষ্টি নিশ্চিত করতে আমদানি করা শিশুখাদ্য সামগ্রীর ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে বাজেটে। এর পাশাপাশি প্রাত্যহিক রান্নার মসলা যেমন জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ ও গোলমরিচের ওপর থেকে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের ডিজিটাল ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার ও মনিটর আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সমুদয় শুল্ক, ভ্যাট ও কর সম্পূর্ণ মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। দেশের লাখ লাখ কিডনি রোগীর জন্য ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করায় প্রতিবার ডায়ালাইসিস সেবার ব্যক্তিগত ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত হ্রাস পাবে।

দেশীয় ক্যানসারের ওষুধ তৈরির কাঁচামালে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি সোনার গয়না ও বাদ্যযন্ত্র আমদানির ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি আমদানির ক্ষেত্রে করভার ৯৩ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে ২৫ হাজার ডলার মূল্যের গাড়িতে ৬৪ শতাংশ করার এক অনন্য দূরদর্শী প্রস্তাব এসেছে।

তথ্যসূত্র: অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড