জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত স্পিরিটস অব জুলাই ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কুয়াশার গান কনসার্টে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে যখন কনসার্টটি তার পূর্ণ ছন্দে চলছিল ঠিক তখনই মঞ্চে উঠে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন।
তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার এই স্লোগানগুলোকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ না করে বরং পাল্টা বিদ্রুপাত্মক স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত হাজারো শিক্ষার্থীর মধ্যে এক ধরনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
কনসার্টে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান মুসাদ্দেক যখন মঞ্চ থেকে কোটা না সংস্কার স্লোগানটি উচ্চস্বরে উচ্চারণ করেন তখন নিচ থেকে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ সমস্বরে চিৎকার করে কোটা কোটা বলতে থাকেন।
ঠিক সেই মুহূর্তেই শিক্ষার্থীদের অন্য একটি দল ইউরেনিয়াম ইউরেনিয়াম বলে বিদ্রুপ শুরু করে। এরপর উক্ত ছাত্রনেতা যখন গোলামী না সংস্কার স্লোগানটি দেন তখন শিক্ষার্থীরা বিদ্রুপের সুরে যুক্তরাজ্যের চাকরি বলে চিৎকার করতে থাকে। এমনকি জুলাই বিপ্লবের চিরচেনা স্লোগান আমি কে তুমি কে শুরু করার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা উত্তরের পরিবর্তে নেতার নাম ধরে মুসাদ্দেক মুসাদ্দেক বলে বিদ্রুপাত্মক ধ্বনি দিতে থাকে। মূলত এক সময়ের জনপ্রিয় স্লোগানগুলো এখন একজন বিতর্কিত নেতার মুখে মানাচ্ছে না বলেই শিক্ষার্থীরা এমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের জানিয়েছেন যে ডাকসুর উক্ত নেতার বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্য এবং চ্যারিটি কনসার্টে সিগারেট বিতরণের মতো সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার ওপর চরম বিরক্ত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের দাবি ছাত্র আন্দোলনের চেতনাকে পুঁজি করে কেউ যেন ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করতে না পারে সেই অবস্থান থেকেই তারা এই পাল্টা স্লোগান দিয়েছেন।
সিটি ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই চ্যারিটি কনসার্টটি শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও স্লোগান পাল্টা স্লোগানের এই ঘটনাটি কনসার্টের পরিবেশকে কিছুটা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি ও নেতাদের অবস্থানের প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন