জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি রাজনীতিতে বিদ্যমান নারী বিদ্বেষী আচরণের দ্বিমুখী মানদণ্ড নিয়ে এক কঠোর বার্তা দিয়েছেন। সোমবার নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে তিনি বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেন যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নারী বিরোধী এবং অশ্লীল বক্তব্যের নমুনা ফুটে উঠেছে।
মোনামি তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে আদর্শিক পার্থক্য থাকলেও নারী এবং নারী রাজনীতিকদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে এক অদ্ভুত মিল লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে নির্বাচন সামনে এলে এই দলগুলোই আবার নারী অধিকারের কথা বলে সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করে যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছেন এই শিক্ষক যে আমাদের দেশে নারী নির্যাতনের বা হয়রানির প্রতিবাদগুলোও এখন দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
তিনি তার দীর্ঘ লেখায় স্পষ্ট করেছেন যে যখন কোনো ডানপন্থি বা ইসলামপন্থি দলের পক্ষ থেকে আপত্তিকর কিছু আসে তখন বামপন্থি ও প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিত মধ্যপন্থি দলগুলো তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু ঠিক একই অপরাধ যখন তাদের নিজেদের দলের ভেতর থেকে কিংবা সমমনা কারো কাছ থেকে হয় তখন তারা এক প্রকার সম্মিলিত নীরবতা পালন করে। এমনকি নারীদের পোশাক, ব্যক্তিগত জীবন বা হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করার ক্ষেত্রেও অনেক সময় তথাকথিত প্রগতিশীলদের নীরব সমর্থন লক্ষ্য করা যায় যা নৈতিকভাবে চরম অবক্ষয়ের প্রমাণ।
মোনামি আরও জানান যে বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে নারী রাজনীতিবিদের নামে কুৎসা রটানো এবং আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো সুসংহত প্রতিরোধ গড়ে উঠছে না। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে নারীর মর্যাদা কি কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বেলায় ক্ষুণ্ন হয়?
যদি নারীর সম্মান ও নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার সত্যিকারের হয়ে থাকে তবে তা অবশ্যই দলমত নির্বিশেষে সবার ক্ষেত্রেই সমান হওয়া উচিত। সব রাজনৈতিক দলের ভেতরকার নারী বিদ্বেষী আচরণের বিরুদ্ধে যদি কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা না যায় তবে নারীর ক্ষমতায়নের এই প্রতিশ্রুতিগুলো কেবল ফাঁকা স্লোগান হিসেবেই থেকে যাবে বলে তিনি মনে করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন