রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,

পরীক্ষায় কোনো ঘাপলা বরদাস্ত করা হবে না: শিক্ষামন্ত্রী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম

পরীক্ষায় কোনো ঘাপলা বরদাস্ত করা হবে না: শিক্ষামন্ত্রী

রাজশাহীতে বক্তব্য রাখছেন শিক্ষামন্ত্রী

আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বচ্ছতার প্রশ্নে ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে পরীক্ষার কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা সচল রাখা বাধ্যতামূলক এবং এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। 

যদি কোনো কেন্দ্রে ক্যামেরা বন্ধ থাকার পেছনে কারিগরি ত্রুটি বা বিদ্যুতের দোহাই দেওয়া হয় তবে সেটিকে অত্যন্ত সন্দেহজনক হিসেবে গণ্য করবে মন্ত্রণালয়।শনিবার রাজশাহীতে আয়োজিত পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

দুপুরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের আয়োজনে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী তার এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সভায় তিনি পরীক্ষার সকল নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণের ওপর জোর দিয়ে বলেন যে কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা প্রয়োজনে যেন কোনো তথ্য তামাদি না হয়ে যায় সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান যে তারা খুব শীঘ্রই একটি কঠোর আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছেন। এই আইনটি কার্যকর হলে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয় বরং প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি স্তরের ব্যক্তিদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে ডিজিটাল যুগের সুযোগ নিয়ে কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হয় সেই প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটি সরকারের নজরে রয়েছে এবং এখন থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি বিশেষ নজরদারির আওতায় থাকবে।

দেশের শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী শূন্য শতাংশ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেন। যদিও মানবিক দিক বিবেচনায় এখন পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধ করা হয়নি তবে ভবিষ্যতে শিক্ষাদানে গাফিলতি দেখা দিলে প্রশাসন কঠোর হতে বাধ্য হবে। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রচলিত পোষ্য কোটা ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন যে মেধা ও যোগ্যতাই হওয়া উচিত ভর্তির একমাত্র মাপকাঠি। বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে কাউকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চর্চা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।

রাজশাহী সফরের শুরুতে সকাল ১০টায় তিনি রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দক্ষতা ও উদ্ভাবন বিষয়ক একটি আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। সেখানে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন যে দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে তারা বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। জাপান বা জার্মানির মতো উন্নত দেশগুলো হাতে-কলমে শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েই আজ বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশের আগামী বাজেটেও কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রতিফলন দেখা যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান তদারকি করতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রতিটি রুমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি জানান যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি নিজেই ঢাকা থেকে পর্যবেক্ষণ করবেন শিক্ষকরা ঠিকমতো ক্লাস নিচ্ছেন কি না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যে আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে তার সফল বাস্তবায়নে শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। মতবিনিময় সভায় শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।