এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণে বড় আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বর্তমানে শিক্ষকদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে যে উৎসব ভাতা দেওয়া হয়, সেটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে অর্থাৎ শতভাগে উন্নীত করার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি জানান, শিক্ষকদের মর্যাদা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক কাজ।
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পূর্ববর্তী সফলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, অতীতে এই উৎসব ভাতা ছিল মাত্র ২৫ শতাংশ। আমরা সেটি বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করেছিলাম। এখন সময় এসেছে শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন করার। শিক্ষকদের এই ভাতা ৫০ থেকে ১০০ শতাংশে উন্নীত করা বর্তমান সরকারের নৈতিক দায়িত্ব বলে তিনি মনে করেন।
পহেলা বৈশাখের এই শুভ দিনে তাঁর এমন ঘোষণা শিক্ষক সমাজের মধ্যে আশার আলো ছড়িয়ে দিয়েছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক গুণগত মানোন্নয়ন নিয়ে ড. এহসানুল হক মিলন বলেন, একটি শিক্ষিত ও মানবিক জাতি গঠন করতে হলে শিক্ষকদের সম্মান ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার আগে জরুরি।
দেশের পূর্ববর্তী সরকারগুলো অনেক ক্ষেত্রে অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকার সেই অসমাপ্ত কাজগুলো গুরুত্বের সাথে শেষ করতে চায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শিক্ষা খাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো কেবল চিহ্নিত করাই নয়, বরং সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের পথে আমরা এগোচ্ছি।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মন্ত্রী শিক্ষা খাতের পাশাপাশি দেশের কৃষি ও স্বাস্থ্যের সমন্বিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এই তিন স্তম্ভের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে দেশের ভবিষ্যৎ। কৃষকদের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষকদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকারের চলমান এই উদ্যোগগুলোর ফলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলো খুব শীঘ্রই আলোর মুখ দেখবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন