এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রচলিত পরীক্ষাকেন্দ্রের অন্যতম আতঙ্ক ‘নীরব বহিষ্কার’ বা ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ প্রথা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ১৯৬১ সাল থেকে চলে আসা এই প্রথাটি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় অপ্রাসঙ্গিক এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে তিনি এই কঠোর নির্দেশনা দেন।
শনিবার আসন্ন এসএসসি, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, মূলত ১৯৬১ সালের একটি সেকেলে নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে এই ‘নীরব বহিষ্কার’ প্রথাটি এতদিন চালু ছিল। অথচ ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনেই এর কোনো অস্তিত্ব নেই। এই বৈপরীত্যের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো বিধিতে অযৌক্তিক বিষয় থাকতে পারে না।
বর্তমান সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নেই বললেই চলে, তাই এমন একটি আদিম নীতিমালা বহাল রাখার কোনো মানে হয় না। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নীতিমালা পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।সভার আলোচনায় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উঠে আসে। মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে আনন্দঘন পরিবেশে পরীক্ষা দেবে। তাদের ওপর এমন কোনো বিধিনিষেধ বা প্রথা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না, যা তাদের মনে ভীতি সৃষ্টি করে বা স্বাভাবিক পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শিক্ষামন্ত্রীর এই নির্দেশনাকে শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা স্বাগত জানিয়েছেন, কারণ এই প্রথার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তার মুখে পড়ত।একই সভায় চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাই থেকে এই পরীক্ষা শুরু হবে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে এবং পূর্ণ সিলেবাসের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে পরীক্ষার তারিখ কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে এই পরীক্ষা চলবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ সাত বছর পর এবারই প্রথম শিক্ষার্থীরা পূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে, যা এ বছরের পরীক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।ভার্চুয়াল এই সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড এবং জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সভায় পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি শিশুবান্ধব ও ভয়হীন পরিবেশ বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। নতুন এই নির্দেশনার ফলে পরীক্ষাকেন্দ্রে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত অধ্যায়ের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন