মে ১৫, ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল এক আবেগঘন পরিবেশে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (১৫ মে) জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন।
১৮ মাসের দায়িত্ব পালন শেষে তার এই প্রস্থান ছিল সাধারণ মানুষের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধায় সিক্ত। বিদায়ের শেষ মুহূর্তে ক্যাম্পাসে এক অন্যরকম বিষাদময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়।১৮ মাসের দীর্ঘ পথচলা শেষ হলো আজ।
জুমার নামাজের পর মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অধ্যাপক ইসমাইল তার দায়িত্ব পালনকালীন কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে সবার কাছে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে অর্জিত সব সাফল্যের কৃতিত্ব শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের, আর ব্যর্থতার দায় কেবল তার নিজের। আমানত থেকে মুক্ত হওয়ার স্বস্তি নিয়ে তিনি সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠান একদিন দেশের নাম আরও উজ্জ্বল করবে।বক্তব্য শেষে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয় মসজিদ প্রাঙ্গণে। উপস্থিত সাধারণ মুসল্লি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রিয় এই অভিভাবককে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেককে ডুকরে কাঁদতে দেখা যায়, যার ফলে উপাচার্যের চোখও অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাকে ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা তাকে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিবিজড়িত বিশেষ চিত্র সম্বলিত একটি দেয়ালম্যাট উপহার হিসেবে তুলে দেন। মসজিদের বাইরে অনেক নারী শিক্ষার্থীকেও উপস্থিত থেকে উপাচার্যকে বিদায় জানাতে দেখা যায়।
নতুন উপাচার্য এই বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবেন — এমন প্রত্যাশা জানিয়ে সবার কাছ থেকে বিদায় নেন ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি অশ্রুভেজা চোখে মসজিদ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। তার বিদায়বেলায় পুরো ক্যাম্পাসে এক নীরব ও বিষণ্ণ পরিবেশ বিরাজ করছিল। ১৮ মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে যে আস্থার জায়গা তৈরি করেছিলেন, তারই প্রতিফলন দেখা গেল এই বিদায়লগ্নে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন