রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হাবিপ্রবি’র গবেষণায় ব্যাগিং পদ্ধতিতে লিচুর ক্ষতিরোধ সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুন ৯, ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

হাবিপ্রবি’র গবেষণায় ব্যাগিং পদ্ধতিতে লিচুর ক্ষতিরোধ সম্ভব

লিচুর ফল ছিদ্রকারী পোকা বা ‘ফ্রুট বোরার’-এর আক্রমণে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ লিচু নষ্ট হয়। এই ক্ষতি রোধ ও বিষমুক্ত লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) কৃষি অনুষদের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম উদ্ভাবন করেছেন পরিবেশবান্ধব ‘ব্যাগিং পদ্ধতি’। গত দুই বছর ধরে তাঁর এই গবেষণায় অভাবনীয় সাফল্য পাওয়া গেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, লিচু গাছের মুকুল থেকে গুটি বের হওয়ার পরপরই প্রতিটি ব্যাগে ৩০ থেকে ৪৫টি লিচু ঢেকে দিলে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে পুরোপুরি রক্ষা পাওয়া যায়। 

এই ব্যাগের ভেতর বাতাস ও আলো চলাচলের ব্যবস্থা থাকায় লিচুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে কোনো বাধা সৃষ্টি হয় না। রাসায়নিক কীটনাশকের পরিবর্তে পেনিকেল ব্যাগিং, বায়োপেস্টিসাইড এবং ইনসেক্ট গ্রোথ রেগুলেটর ব্যবহার করায় উৎপাদিত লিচু হয় সম্পূর্ণরূপে বিষমুক্ত।

দিনাজপুর সদরসহ চিরিরবন্দর ও ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন লিচু বাগানে এই পদ্ধতিটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে শতভাগ সাফল্য মিলেছে। অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম জানান, রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহারের ফলে পরিবেশ ও মানবদেহের যে ঝুঁকি তৈরি হয়, তা থেকে মুক্তি দিতেই এই প্রযুক্তি কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাগের রঙ লিচুর মানের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না, বরং ফলের গুণগত মান ও রং আরও আকর্ষণীয় থাকে।

আগামী বছরগুলোতে আরও অধিক সংখ্যক বাগানের মালিক এই প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিষমুক্ত ও নিরাপদ লিচু ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের প্রচারণায় এই পদ্ধতি মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে হাবিপ্রবি। এই প্রকল্পটি চূড়ান্তভাবে সফল হলে দেশে লিচু চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে আরও লাভবান হবেন বলে প্রত্যাশা গবেষকদের।