রকিবুল হাসান মুন্না
অক্টোবর ১৪, ২০২৫, ১১:০৩ এএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তিনটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। সোমবার (১৩ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে মার্কেটিং, পদার্থবিজ্ঞান ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সাম্প্রতিক জেন-জি আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের এক ম্যাচের জের ধরে মার্কেটিং ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় সোমবার পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা চকবাজার এলাকায় মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেন।

এই খবর জানাজানি হলে উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী প্রান্ত ঘোষের মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সংঘর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ছড়িয়ে পড়লে প্রধান ফটক এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফটকের ভেতরের ছবির ফ্রেমও ভাঙচুর করা হয়।
এরপর মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতা স্মারক মাঠে থাকা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইউসুফ আলীকে ভুল করে পিটিয়ে আহত করলে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও সংঘর্ষে যোগ দেন।
সংঘর্ষের মুখে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রাণভয়ে একাডেমিক ভবন-৩ এর ভেতরে আশ্রয় নেন। পরে পরিসংখ্যান ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শত শত শিক্ষার্থী ভবনটির মূল গেটে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
শিক্ষার্থীরা ভবনের তালা খুলে নিচতলায় থাকা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শ্রেণিকক্ষগুলোর দরজা-জানালাও ভাঙচুর করেন। এ সময় সংঘর্ষে মার্কেটিং বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী নিলয় চোখে গুরুতর জখম হয়ে ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেননি। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী সহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও তাতে কাজ হয়নি।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পরিসংখ্যান ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ভবন-৩-এর সামনে অবস্থান করছিলেন এবং মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি সভায় বসেছে।