ডিসেম্বর ৯, ২০২৫, ০৩:৪৬ পিএম
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে দীর্ঘ ছাব্বিশ বছরের ক্যারিয়ারে অসংখ্য সফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁর অভিনীত নতুন সিনেমাগুলো যেন একের পর এক নতুন ইতিহাস তৈরি করছে।
২০২৩ সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত—টানা এই তিন বছরে 'প্রিয়তমা', 'তুফান' এবং 'বরবাদ' সিনেমাগুলো মুক্তি পেয়ে প্রতিটি বছরেই একটি করে ইন্ডাস্ট্রি হিট উপহার দিয়ে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে এক বিরল অর্জন গড়েছেন।
দর্শক টান, গণমাধ্যমে আলোচনা, ব্যবসায়িক সাফল্য এবং আন্তর্জাতিক বাজার—সব সূচকেই শাকিব খানের এই তিন ছবির প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট।
তাঁর এই সাফল্যের যাত্রা শুরু হয় ২০২৩ সালের ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া 'প্রিয়তমা' সিনেমা দিয়ে। আরশাদ আদনান প্রযোজিত এবং হিমেল আশরাফ পরিচালিত রোমান্টিক ঘরানার এই ছবিটি দেশে ও বিদেশে অভাবনীয় সাড়া ফেলে। এটি বিশ্বব্যাপী ৪২ কোটি টাকার গ্রস কালেকশন করে বলে জানা যায়। বিশেষ করে প্রবাসীদের মধ্যে ছবিটি রেকর্ড প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এরপর ২০২৪ সালের ঈদুল আযহায় মুক্তি পাওয়া 'তুফান' সিনেমার মাধ্যমে শাকিব খানের পর্দায় থাকা ইমেজ পুরোপুরি পাল্টে যায়।
গ্রিটি লুক, উচ্চমানের অ্যাকশন এবং শক্তিশালী কাহিনির সমন্বয়ে এটি বছরের সবচেয়ে আলোচিত ও ব্যবসাসফল ছবি হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং টানা শো হাউসফুলের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি হিট হিসেবে ঘোষিত হয়।এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় 'বরবাদ' এবং মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই এটি বক্স অফিসে ঝড় তোলে। নতুন যুগের গল্প, আধুনিক নির্মাণশৈলী এবং শাকিব খানের পরিণত অভিনয় দর্শকদের আবারও হলে ফিরিয়ে আনে এবং হল মালিকদের কাছ থেকে রেকর্ড আয়ের খবর আসে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, একজন তারকা যদি টানা তিন বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে হিট সিনেমা উপহার দিতে পারেন, তাহলে এটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয় না। বরং এটি পুরো চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শকের আস্থা ফিরিয়ে আনার একটি বড় লক্ষণ। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই সাফল্যের কারণে দর্শক যেমন সিনেমা হলমুখী হচ্ছে, তেমনি নতুন প্রযোজকদেরও বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ছে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি সিনেমার গ্রহণযোগ্যতা আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হচ্ছে। শাকিব খানের টানা তিন বছরের এই ব্যবসায়িক সাফল্য প্রমাণ করে যে মানসম্মত নির্মাণ এবং নতুনত্বের সঙ্গে হাজির হলে দর্শক আজও সানন্দে হলে ভিড় করতে প্রস্তুত। বাংলা সিনেমার ভবিষ্যতের পথচলায় এটি একটি অত্যন্ত উজ্জ্বল বার্তা এবং নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন