সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬,

মারা গেলেন অভিনেত্রী মধু কাম্বিকর

বিনোদন ডেস্ক

অক্টোবর ১২, ২০২৬, ০৪:২০ পিএম

মারা গেলেন অভিনেত্রী মধু কাম্বিকর

ছবি: সংগৃহীত

মারা গেলেন অভিনেত্রী মধু কাম্বিকর, যার প্রয়াণে ভারতের মারাঠি চলচ্চিত্র, নাট্যমঞ্চ ও ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের একটি বর্ণময় অধ্যায়ের চিরসমাপ্তি ঘটল। সোমবার (১২ অক্টোবর) মহারাষ্ট্রের পুনেতে নিজের বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ৭৩ বছর বয়সী এই গুণী শিল্পী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানাবিধ জটিল শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর মাত্র চার দিনের মাথায় একসময়ে পর্দায় তার মায়ের ভূমিকায় অবিস্মরণীয় অভিনয় করা এই সহশিল্পীর মৃত্যুতে বিনোদনজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক অসুস্থতা এবং পক্ষঘাতের শারীরিক জটিলতাই তার মৃত্যুর কারণ বলে চিকিৎসাসূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

২০১৬ সালে মারাত্মক স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ওই অসুস্থতার ধাক্কায় একপর্যায়ে তিনি অভিনয় ও লোকনৃত্য পরিবেশনা থেকে নিজেকে স্থায়ীভাবে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন।

এর আগে ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর দীর্ঘ ১২ বছর পর মঞ্চে ফিরেছিলেন মধু কাম্বিকর।

মুম্বাইয়ের মাতুঙ্গার যশবন্ত নাট্য মন্দিরে আয়োজিত বিশেষ ‘লাবণ্যসঙ্গীত’ অনুষ্ঠানে দর্শকদের সামনে নৃত্য পরিবেশন করছিলেন তিনি। অনুষ্ঠান চলাকালেই তিনি তীব্র শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেন, তবে মঞ্চের মর্যাদা রক্ষা করে চরম অসুস্থতার মধ্যেও শেষ পর্যন্ত নিজের ‘ভৈরবী’ পরিবেশনা সম্পন্ন করেন। পরিবেশনা শেষে মেকআপ রুমে প্রবেশ করার পরই তিনি দ্বিতীয়বার গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন, যাতে তার ডান হাত স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পর থেকে দীর্ঘ লড়াই চালালেও স্বাভাবিক শিল্পজীবনে ফেরা আর সম্ভব হয়নি তার পক্ষে।

চার দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি মারাঠি বিনোদনজগতের অন্যতম শীর্ষ অভিভাবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

পেশাদার অভিনয়জীবনে ৭৫টিরও বেশি চলচ্চিত্রে এবং এক ডজনেরও অধিক জনপ্রিয় মঞ্চনাটকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। গ্রামীণ লোকশিল্পের প্রাণবন্ত প্রকাশ থেকে শুরু করে আধুনিক চলচ্চিত্রের তীব্র আবেগঘন অভিব্যক্তি—সবখানেই তার সাবলীল দক্ষতা ছিল প্রশংসিত।

‘ঝাপাটলেলা’, ‘দেবু’, ‘বিনকামাচা নবর’, ‘মাঝা চাকুলা’ এবং ‘এক হোতা বিদূষক’-এর মতো দর্শকনন্দিত চলচ্চিত্রে তার রূপদান দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নেয়।

পর্দায় স্নেহময়ী মা, রাশভারী শাশুড়ি কিংবা পরিবারের অভিভাবকসুলভ প্রতিটি চরিত্রে তিনি মমতা ও মানবিকতার গভীর মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন।

অভিনয়জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় ছিল ১৯৯৭ সালের বিখ্যাত হিন্দি ছবি ‘যশবন্ত’।

এই চলচ্চিত্রে তিনি শক্তিমান অভিনেতা নানা পাটেকরের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করে ভূয়সী প্রশংসা কুড়ান। বাস্তব জীবনে নানা পাটেকরের চেয়ে দুই বছরের ছোট হওয়া সত্ত্বেও অসাধারণ অভিনয়দক্ষতা দিয়ে পর্দায় চরিত্রটিকে অত্যন্ত জীবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য করে ফুটিয়ে তুলেছিলেন মধু কাম্বিকর।

মারাঠি ভাষার পাশাপাশি হিন্দি ও গুজরাটি চলচ্চিত্রেও তিনি দক্ষতার সাথে অভিনয় করেছেন।

হিন্দি চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘শোলা অউর শবনম’, ‘হাম দোনো’, ‘সাতওয়াঁ আসমান’ এবং ‘আপনাপন’-এ তার অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছিল।

২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আভ্রাণ’ চলচ্চিত্রে তাকে শেষবারের মতো রূপালি পর্দায় অভিনয় করতে দেখা যায়। এর পরের বছরই স্ট্রোকের কারণে তার দীর্ঘ শিল্পযাত্রা থেমে যায়। দীর্ঘদিন অন্তরালে থাকলেও মারাঠি লোকশিল্প লাবণী এবং মূলধারার চলচ্চিত্রে তার অনন্য অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।