অক্টোবর ২৬, ২০২৫, ০২:০২ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দীর্ঘ প্রায় পঁয়ত্রিশ বছরের আয়-ব্যয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ডাকসুর নামে কোনো ব্যাংক হিসাব না থাকায় এবং তহবিল সম্পূর্ণ শূন্য অবস্থায় নবনির্বাচিত নেতাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ১৯৯۰ সালের পর থেকে ডাকসু কার্যত অকার্যকর থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মিত ফি সংগ্রহ করেছে।
কিন্তু সেই বিপুল অঙ্কের অর্থের কোনো হদিস মিলছে না, যা নিয়ে নবনির্বাচিত ডাকসু ও হল সংসদ প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ডাকসু ও হল সংসদের জন্য বার্ষিক ফি প্রদান করেন। এই খাতে বছরে মোট ৩৬ লাখ ৬ হাজার টাকা সংগৃহীত হয়, যার অর্ধেক ডাকসুর এবং বাকি অর্ধেক স্ব স্ব হল সংসদের জন্য নির্ধারিত।
সেই হিসাব অনুযায়ী, শুধু গত ছয় বছরেই (২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল) শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোট ২ কোটি ১৬ লাখ ৩৬ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ডাকসুর তহবিলে জমা থাকার কথা। কিন্তু বিস্ময়করভাবে, চলতি অর্থবছরে ডাকসুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বাজেটে মাত্র ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। বাকি টাকার কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডাকসু নেতারা।
ডাকসুর নবনিযুক্ত কোষাধ্যক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এইচ এম মোশারফ হোসেন এই পরিস্থিতিকে ‘বিব্রতকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ডাকসুর নামে কোনো আলাদা ব্যাংক হিসাব নেই এবং নবনির্বাচিত নেতারা কার্যক্রম চালানোর জন্য ব্যক্তিগতভাবে বা স্পন্সরদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় বাজেটে ডাকসুর ফি ‘নিজস্ব আয়’ হিসেবে দেখানো হয়, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি করছে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, তাদের কাছে এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। ডাকসু ও হল সংসদ বাবদ কত টাকা জমা হয়েছে এবং কোথায় তা খরচ হয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেটমেন্ট তৈরি করা হচ্ছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই তা প্রস্তুত হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
ডাকসুর নবনির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম বলেন, তারা প্রশাসনের কাছে ১৯৯۰ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দেওয়া ডাকসু ও হল সংসদের ফিয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব চেয়েছেন। এমনকি ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়ের অডিট রিপোর্ট ও হিসাব ডাকসুর অ্যাকাউন্টে হস্তান্তরের দাবিও জানিয়েছেন। কিন্তু তিন সপ্তাহ আগে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো জবাব মেলেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি মনে করেন, প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবেই এই অর্থের হিসাব গোপন করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, প্রয়োজনে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বেতন বন্ধের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতেও ডাকসু বাধ্য হবে। জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) এস এম ফরহাদও জানান, ডাকসুর অ্যাকাউন্টে এক টাকাও নেই এবং স্পন্সরদের সহায়তায় কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
এই অচলাবস্থার মধ্যেই ডাকসু তিন দফা দাবিতে রোববার (২৬ অক্টোবর) বিক্ষোভ মিছিল ও রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবিগুলো হলো: ডাকসু ও হল সংসদের অতীতের সব ফান্ডের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ ও স্বচ্ছ বাজেট উপস্থাপন; নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠনে টোকাই, ভবঘুরে ও মাদকচক্র নির্মূল এবং ‘খুনি হাসিনার পক্ষে’ মিছিলে অংশ নেওয়া ডেপুটি রেজিস্ট্রারসহ ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপসারণ ও বিচার।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন