শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

নবজাতকের হাম হলে যা করবেন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম

নবজাতকের হাম হলে যা করবেন

হাম প্রতিরোধে সচেতনতা

দেশের ৫৬টি জেলায় হঠাৎ করেই হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত শিশুদের নয় মাস বয়স পূর্ণ হলে হামের টিকা দেওয়া হয় তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক শিশু এই নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। ভাইরাসটি অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় এবং নবজাতকদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকায় অভিভাবক মহলে নতুন করে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন হাম একটি বিশেষ ধরনের ভাইরাল সংক্রমণ যা মূলত শ্বাসযন্ত্রকে আক্রমণ করে। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির লালা বা শ্লেষ্মার মাধ্যমে অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত জন্মের পর কয়েক মাস পর্যন্ত শিশুরা মায়ের শরীর থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডির মাধ্যমে সুরক্ষা পায়। 

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে শুরু করে। ঠিক এই সন্ধিক্ষণেই অর্থাৎ ছয় মাস বয়সের পর থেকে টিকার বয়স হওয়ার আগ পর্যন্ত শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকে।

হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ সর্দি-কাশি বা জ্বরের মতো মনে হতে পারে বলে অনেক সময় অভিভাবকরা শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। তবে জ্বরের পাশাপাশি চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন হাম থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যা শিশুর জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ।

এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। শিশুর ব্যবহার্য কাপড় এবং খেলনা নিয়মিত জীবাণুমুক্ত রাখার পাশাপাশি ঘরকে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসপূর্ণ রাখতে হবে। আশেপাশে কেউ আক্রান্ত থাকলে শিশুকে তার সংস্পর্শ থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা আবশ্যক। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং দীর্ঘ সময় শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন সামান্য অসতর্কতা বড় ধরণের বিপদের কারণ হতে পারে। তাই শিশুর মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে টিকা গ্রহণের পাশাপাশি পারিবারিক সচেতনতাই পারে এই ভয়াবহ সংক্রমণ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।